কেএমডিএ-র আর্জি খারিজ, কোনওভাবেই রবীন্দ্র সরোবরে করা যাবে না ছটপুজো!
টিএনই ডেস্ক : আগামী ১৯ ও ২০ নভেম্বর, কলকাতায় ছটের ব্রত পালন করবেন পুন্যার্থীরা। কলকাতার বুকে রবীন্দ্র সরোবরে ছটপুজোর দিন ভিড় জমান অবাঙালি হিন্দিভাষী মানুষজন। সরোবরের জলে নেমে পুজো সম্পন্ন করা ছাড়াও চলে দেদার বাজি–পটকা ফাটানো। এছাড়া ময়লা ফেলা, নোংরা করা তো আছেই।
ফলে রবীন্দ্র সরোবর এলাকা ছটপুজোর জেরে অন্তত চার-পাঁচদিন চরম দূষণের কবলে পড়ে। এই নিয়েই রাজ্যের পরিবেশবিদরা মামলা ঠুকেছিলেন ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইবুনালে। সেই মামলায় রবীন্দ্র সরোবরে ছটপুজোর কোনও অনুষ্ঠান না করার নির্দেশ দেয় ট্রাইবুনাল। তার উপর স্থগিতাদেশ চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করে কেএমডিএ।
তাই এবছর আর পরিবেশ আদালতের নিষেধাজ্ঞা মেনে রবীন্দ্র সরোবরে পুজো করা যাবে না। রবীন্দ্র সরোবরে যাতে ছটপুজো করা যায়, তার জন্য রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে কলকাতার মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (সিএমডিএ) মামলা দায়ের করেছিল সুপ্রিম কোর্টে। ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইবুনালের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সর্বোচ্চ আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। রবীন্দ্র সরোবর এলাকায় দূষণ ঠেকাতে ছটপুজো বন্ধ করার জন্য ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইবুনাল যে নির্দেশ দিয়েছিল, তার উপর স্থগিতাদেশ জারি করার আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু সোমবার সুপ্রিম কোর্টে সেই ধরনের কোনও পদক্ষেপ তো করেইনি। বরং ট্রাইবুনালের নির্দেশ ঠিকমতো মানা হচ্ছে কিনা তা দেখতে নোটিশ জারি করা হল। ফলে রবীন্দ্র সরোবরে ছটপুজো নিয়ে কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিল না সুপ্রিম কোর্ট।
শীর্ষ আদালতের নির্দেশের কথা শুনে এদিন কেএমডিএ চেয়ারম্যান পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছেন, “পুন্যার্থীদের ধর্মীয় ভাবাবেগের কথা ভেবেই রাজ্য আবেদন করেছিল। কিন্তু কোর্টের মেনেই কেএমডিএ ও রাজ্য সরকার সরোবরের বিকল্প জলাশয়ে ৪৪টি ঘাট ঘাট তৈরি করে পরিষেবা দেবে।” জাতীয় পরিবেশ আদালত গত বছর রবীন্দ্র সরোবরে ছটপুজোয় নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও তা অমান্য করে সেখানে পুজো হয়েছিল। সরব হয়েছিলেন পরিবেশকর্মীরা। কিন্তু রাজ্য জানিয়ে দেয়, ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করা যাবে না।ব্রতপালনকারীদের ধর্মীয় ভাবাবেগের কথা মাথায় রেখে অন্তত এ বছর বিধিনিষেধ মেনে সরোবরে পুজো করার অনুমতি চেয়ে শীর্ষ আদালতে আপিল করেছিল রাজ্য সরকার।একইসঙ্গে পরিবেশ আদালতের নিষেধাজ্ঞা জারির উপরও স্থগিতাদেশ চেয়েও পিটিশন করে রাজ্য।
সোমবার বিচারপতি নরিম্যানের নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চে সেই আপিলের শুনানির কথা ছিল। কিন্তু স্বয়ং নরিম্যান অনুপস্থিত থাকায় অন্য তিন বিচারপতির এজলাসে শুনানি হয়। বিচারপতিরা হলেন ইউ ইউ ললিত, বিনীত শরণ, রবীন্দ্র ভাট। বিচারপতিরা এদিন স্থগিতাদেশ না দিয়ে মামলার শুনানি ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত পিছিয়ে দিয়েছেন।শীর্ষ আদালত জানিয়ে দিয়েছে ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ যথাযথ ভাবে পালিত হয়েছে কিনা তা রাজ্য সরকারকে পরবর্তী শুনানির দিন জানাতে হবে। একই সঙ্গে পরিবেশবিদদেরও জানাতে হবে ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ যথাযথ ভাবে পালিত হচ্ছে কিনা।

No comments:
Post a Comment