শ্রীপুর এখন প্লাস্টিক মুক্ত - The News Express

Breaking

The News Express

A Bengali News and Entertainment Web-Channel (24x7) The power of information

Youtube


Friday, October 25, 2019

শ্রীপুর এখন প্লাস্টিক মুক্ত

প্রদীপ সরকার,গোবরডাঙ্গা:-কেউ কোদাল হাতে নেমে পড়েছেন নর্দমা সাফাইয়ে, কেউ বা ব্যস্ত কাস্তে হাতে পথের ধারে বেড়ে ওঠা ছোট গাছের ডালপালা ছাঁটতে, আবার কেউ বা গ্লাভস হাতে পড়ে থাকা প্ল্যাস্টিক সংগ্রহ করে বস্তাবন্দী করে চলেছেন। সবথেকে বিরল দৃশ্য – ভ্যানের হ্যান্ড্রেল হাতে এগিয়ে চলেছেন গ্রামেরই সম্মানীয়া এক দিদি।
                     
এ দৃশ্য মাঝে মাঝেই চোখে পড়ে একমাত্র শ্রীপুরে। হ্যাঁ, বর্ণনার সাথে কল্পনা যদি মেলাতে চান, আপনি হয়তো অবাক হবেন হয়তো বা মেলাতে গিয়ে হিমসিম খাবেন। কারণ এখানে মহিলাদের সংখ্যাটাই বেশী। কেউ বা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যা, কেউ বা আই. সি. ডি. এস. কর্মী আবার কেউ বা বাড়িতে একান্তই ঘড়কন্যার কাজে ব্যস্ত থাকেন। সামাজিক গোঁড়ামির বাইরে বেরিয়ে এসে আজ তাঁরা এক নিরব সামাজিক বিপ্লবের সাক্ষী। 

সামাজিক বিকাশে রাজা রামমোহন রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, জ্যোতিরাও ফুলে এবং আরও অনেক সমাজ সংস্কারক নারীদের উন্নয়নের জন্য লড়াই করেছিলেন। তার সুফল পাওয়া যায় চন্দ্রমুখী বসু, কদম্বিনী গাঙ্গুলী, আনন্দীগোপাল জোশিদের মত কৃতিদের শংসাপত্রে।


একমাত্র নারী শক্তিই পারে সমাজ সংসারের আমূল পরিবর্তন ঘটাতে। চিরাচরিত এই ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে উত্তর চব্বিশ পরগণা জেলার গাইঘাটা থানার অন্তর্গত ১নং গ্রাম পঞ্চায়েতের যমুনা তীরবর্তী শ্রীপুর গ্রামের মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যারা এক নিরব সামাজিক বিপ্লব ঘটিয়ে "প্লাস্টিক মুক্ত শ্রীপুর " গঠন করে এক বিরল নজির সৃষ্টি করে ফেলেছেন গ্রামের তরুণ যুবা সঞ্জিত সরকারের উদ্যোগে যে উদ্যোগকে সফলতার চূড়ায় পৌঁছে দিতে মনেপ্রাণে সহায়তা করেছে শ্রীপুর দিশারী, গ্রামের অগ্রণী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইছাপুর হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক ও বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা সহ শ্রীপুর রূপায়ণ এবং শ্রীপুর অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়।
আগের মত একান্নবর্তী পরিবার আর তেমন দেখা যায় না। গ্রামের প্রতিটি পরিবারের প্রায় প্রতিটি সদস্য কোন না কোন কাজের সাথে যুক্ত। বিশেষ করে বাড়ির মহিলাদের বাড়ির দৈনন্দিন কাজে দিনের বেশিরভাগ সময় ব্যয় করতে হয়। এত ব্যস্ততার মাঝেও গ্রামের যে মহিলারা “প্ল্যাস্টিক মুক্ত শ্রীপুর” গঠনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে চলেছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম - অনিতা দে, রমলা বিশ্বাস, অসীমা সরকার, দিপালী মণ্ডল, শিখা গাইন, মমতা বসাক, রমা বসাক, অনামিকা মণ্ডল, কাজল ঘোষ, সরস্বতী ঘোষ, অপর্ণা সরকার, সুনিতা সরকার, বিশাখা মণ্ডল, পূর্ণিমা মণ্ডল, রিনা গুহা, দীপা গুহ, লাবনী গুহ, বাসনা মণ্ডল, শুভদ্রা বালা, ছবি মণ্ডল সহ আশা কর্মী অমিতা মজুমদার ও গ্রামের তিনজন আই.সি.ডি.এস. কর্মী ঝর্ণা অধিকারী, লক্ষ্মী সরকার, সরস্বতী মণ্ডল অন্যতম। এছাড়া প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে এ সামাজিক নবজাগরণে সহায়তা করে চলেছেন প্রতিটি শুভবুদ্ধি সম্পন্ন গ্রামবাসী।

আজকের শ্রীপুর এভাবে আলোর দিশা দেখিয়ে চলুক গ্রাম থেকে গ্রামে, ব্লক থেকে ব্লকে, একে একে জেলা তারপর রাজ্যস্তরে। ভারতের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ুক প্ল্যাস্টিক মুক্ত সমাজ গঠনের মন্ত্র।



join with us on facebook


No comments:

Post a Comment