স্বপ্নীল মজুমদার, ঝাড়গ্রাম:- লক ডাউনের ফলে জঙ্গলমহলের গরিব মানুষদের কাছে 'মুসকিল আসান' ওঁরা। ঝাড়গ্রাম জেলার ছয় জন যুবক নিজেদের উদ্যোগে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের গরিব মানুষজনের বাড়িতে পৌঁছে দিচ্ছেন বিনামূল্যের খাদ্যসামগ্রী ও জরুরি পরিষেবার সামগ্রী। গত ২৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত আড়াইশো পরিবারের প্রায় এক হাজার জনের মুখে ক্ষুধার অন্ন তুলে দিয়েছেন ঝাড়গ্রাম শহরের তরুণ সমাজসেবী প্রতীক মৈত্র ও তাঁর বন্ধুরা। প্রতীক ছোটখাটো ব্যবসা করেন। তাঁর বন্ধু স্কুলশিক্ষক অনুপ ঠাকুর, মোবাইল ফোনের দোকানের কর্মী অভিরাজ সিং, অঙ্কনশিল্পী রোহিত সিনহা, পেশাদার ক্রিকেট খেলোয়াড় সোমনাথ দাস ও পান দোকানের মালিক রাহুল রজকরাও প্রতীকের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে প্রতিদিন ত্রাণ বিলি করছেন।
প্রতীকদের পাশে দাঁড়িয়েছেন বহু সাধারণ মানুষ। তাঁরা অর্থ দিয়ে সাহায্য করছেন প্রতীকে। প্রতীক বলেন, "সরকারি স্তরে ত্রাণ বিলি হলেও এখনও বহু মানুষ সাহায্য পাননি। রেশনের বিনামূল্যের চাল আর আটা পেয়েছেন কিছু উপভোক্তা। কিন্তু জঙ্গলমহলের খেটেখাওয়া গরিব মানুষজন চারবেলা ভাত খান। রেশনের চালে সবার খিদে মিটছে না। উপরন্তু, দিনমজুরির কাজ বন্ধ থাকায় প্রাত্যহিক প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনার টাকাও নেই গরিব মানুষজনের হাতে। সেই কারণেই আমরা চাল, ডাল, আলু, শাক সব্জি, গুঁড়ো দুধ, বিস্কুট, মুড়ি, চিঁড়ে, চানাচুর, ডিম, সাবান পৌঁছে দিচ্ছি অভাবী পরিবার গুলির কাছে।"
এই কাজকে সমাজসেবা বলতে নারাজ প্রতীক। তাঁদের কথায়, দেশ জুড়ে এখন করোনা ভাইরাসের কারণে সঙ্কট দেখা দিয়েছে। তাই মানুষের পাশে দাঁড়ানোটা নিজেদের কর্তব্য বলে মনে করছেন ঝাড়গ্রাম শহরের এই যুবকেরা।
লকডাউনের ফলে সমস্যায় পড়েছেন অনেকেই। বয়স্করা ওষুধ কিনতে যেতে পারছেন না। তাই কেউ ফোন করলেই ওষুধ নিয়েও হাজির হয়ে যাচ্ছেন প্রতীক ও তাঁর বন্ধুরা। মানিকপাড়া এলাকার এক বৃদ্ধ ওষুধ না পেয়ে সমস্যায় পড়েছিলেন। ঝাড়গ্রাম থেকে ওষুধ কিনে নিয়ে ২০ কিমি দূরে ওই বৃদ্ধের কাছে ওষুধ পৌঁছে দিয়ে আসেন তাঁরা। লকডাউনের ফলে অসহায় মানুষের পাশে সেবার পরশ দিয়ে নজির গড়েছেন এই যুবকেরা।
No comments:
Post a Comment