রাজ্য জুড়ে সাংবাদিকদের উপর আক্রমণের প্রতিবাদে ধিক্কার মিছিল করল বীরভূম জেলার সাংবাদিকরা। মিছিল শেষে বীরভূম জার্নালিস্ট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে মহকুমা শাসকের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রতিবাদপত্র পাঠানো হয়। মহকুমা শাসক সুপ্রিয় দাশ বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির কাছে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, ত্রিস্তর পঞ্চায়েত নির্বাচনের মনোনয়ন পর্বে বার বার আক্রান্ত হয়েছে সাংবাদ মাধ্যম। বিশেষ করে উচ্চ আদালতের রায়ের পর অতিরিক্ত মনোনয়নের দিন রামপুরহাট পাঁচমাথা মোড়ে দুষ্কৃতীদের হাতে আক্রান্ত হন আনন্দবাজার পত্রিকার চিত্র সাংবাদিক সব্যসাচী ইসলাম। একই দিনে দুবরাজপুরে আক্রান্ত হন এবিপি আনন্দের চিত্রসাংবাদিক এরশাদ আলম, লাভপুরে ২৪ ঘণ্টার চিত্র সাংবাদিক অমর দত্ত এবং মুরারইয়ে বেঙ্গল ম্যাসেজ পত্রিকার সম্পাদক সফিকুল ইসলাম। প্রতিটি ক্ষেত্রে অভিযোগ করা হলেও পুলিশ এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করেনি। এমনকি উদ্ধার করতে পারেনি সব্যসাচী ইসলামের ছিনিয়ে নেওয়া ক্যামেরা। তারই প্রতিবাদে মঙ্গলবার বীরভূম জার্নালিস্ট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে ধিক্কার মিছিল করা হয় রামপুরহাট শহরে। মিছিল রামপুরহাট শহর পরিক্রমা করে মহকুমা শাসকের অফিসে জমায়েত হয়। এরপরেই গত এক বছরে জেলায় সাংবাদিকদের উপর আক্রমণের তালিকা তুলে দেওয়া হয় মহকুমা শাসক এবং মহকুমা পুলিশ আধিকারিকের হাতে। একই স্মারকলিপি পাঠানো হয় রাজ্যপাল, রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিব, কলকাতা প্রেস ক্লাব এবং জেলা শাসক ও জেলা পুলিশ সুপারকে। সংগঠনের সভাপতি দেবশ্রী মজুমদার বলেন, “গত বছরের ৭ সেপ্টেম্বর দুর্গা পুজোর আগে রামপুরহাট নিশ্চিন্তপুরে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে ক্লাব কর্তাদের হাতে আক্রান্ত হন ইটিভির সাংবাদিক অক্ষয় ধীবর এবং কলকাতা টিভির সাংবাদিক অঞ্জন দে। ওই ঘটনায় সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। কিন্তু পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেফতার না করে তাদের জামিন পেতে সাহায্য করে। এমনকি এখনও পর্যন্ত সাংবাদিকদের ক্যামেরাও উদ্ধার করতে পারেনি। একইভাবে গত বছরের ১৩ আগস্ট নলহাটি পুরসভা নির্বাচনে খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে দুষ্কৃতীদের হাতে আক্রান্ত হন প্রতিদিনের চিত্র সাংবাদিক বাসুদেব ঘোষ। তার ক্যামেরা ভেঙে দেয় দুষ্কৃতীরা। ওই ঘটনায় দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে পুলিশ কোন ব্যবস্থা নিতে পারেনি”। এভাবেই চারটি ঘটনা উল্লেখ করে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। যার একটিও পুলিশ কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেনি। সাংবাদিকরা মহকুমা শাসকের কাছে প্রশ্ন করেন সংবাদ মাধ্যমের উপর আক্রমণকারীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না ঘটনার তালিকা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হবে? এনিয়ে মুখ খুলতে চাননি মহকুমা শাসক সুপ্রিয় দাস।
তথ্য-সংগৃহীত
No comments:
Post a Comment