ভারতীয় সেনার মারে ৬০ চিনা জওয়ানের মৃত্যু, বিস্ফোরক মার্কিন সংবাদমাধ্যম
স্বাগতা মিস্ত্রী: লাদাখ সীমান্তে ভারত-চিন সংঘাত নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আনল মার্কিন সংবাদপত্র নিউজউইক। সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গালওয়ান উপত্যকায় সংঘর্ষের ঘটনায় চিনের প্রায় ৬০ জন সেনা-জওয়ানের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর রীতিমত চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
সীমান্ত নিয়ে ভারতের সঙ্গে চিনের বিরোধ নতুন নয়। দশকের পর দশক ধরে, দু'দেশের মধ্যে এই বিরোধ চলে আসছে। কিন্তু, গত জুন মাস থেকে লাদাখের গালওয়ান উপত্যকা থেকে যে সংঘাত শুরু হয়েছে, তা দিনদিন আরও বেড়ে চলেছে। গলওয়ানের সেই সংঘর্ষে সেনা অফিসার-সহ ২০ ভারতীয় জওয়ান শহিদ হয়েছিল। ভারত দাবি করেছিল, চিনের বহু সেনার মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু চিন তা স্বীকার করেনি। এবার আমেরিকার সংবাদমাধ্যম 'নিউজ উইক'-এর প্রতিবেদন দাবি করা হল, ভারতের ২০ জওয়ানের পাশাপাশি চিনা পিপলস আর্মির ৬০ জন সেনা মারা গিয়েছিল। যদিও চক্ষুলজ্জার খাতিয়ে সেই তথ্য সামনে আনেনি চিন, এমনটাই লেখা হয়েছে প্রতিবেদনে। এমনকী ভারতীয় সেনার চাপে চিনা সেনাকে পিছু হটতে বলেও উল্লেখ করা হয়।
কেন্দ্রের তরফে ওই ঘটনাকে 'হিংসাত্মক সংঘর্ষ'-এর কথা বলা হলেও, গুলি চলার কথা কোনও পক্ষই স্বীকার করেনি। বেজিং অবশ্য সাফাই দিয়েছিল, সীমান্ত পার করে চিনা সেনাদের উপর হামলা চালিয়েছে ভারতীয় সেনা। যদিও, ভারত বেজিং-এর সেই দাবি নস্যাত্ করে দেয়।
ভারতীয় সেনা পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ)-র আগ্রাসনের মোক্ষম জবাব দিয়েছিল। গালওয়ানে এই ঘটনার পর চিন খেপে রয়েছে। জানা গিয়েছে, ব্ল্যাক টপ ও হেলমেট টপের আশেপাশে গতিবিধি বাড়িয়েছে চিনা সেনা। উপগ্রহ থেকে পাওয়া ছবিতে চিনের শিবির দেখা গিয়েছে।ফিঙ্গার-৪ এলাকায় মোতায়েন চিনা সেনাদের ওপর নজরদারি রাখতে পার্বত্য শৃঙ্গ ও কৌশলগত ঘাঁটিগুলিতে অতিরিক্ত সেনা ও অন্যান্য সরঞ্জাম পাঠিয়েছে ভারতীয় সেনা।প্যাংগং হ্রদের উত্তর তীরে ফিঙ্গার-৪ থেকে ফিঙ্গার-৮ পর্যন্ত চিনের সেনা মোতায়েন রয়েছে। কিন্তু উচ্চ শৃঙ্গগুলি ভারতীয় সেনা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর থেকেই চিনের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।ফিঙ্গার এলাকা নিয়ে চিন অনড় অবস্থান নিয়েছে। তারা ফিঙ্গার-৪ থেকে পিছু হঠতে নারাজ। সূত্রের খবর, চিনের দাবি, ফিঙ্গার-৮ থেকে ফিঙ্গার-৫ পর্যন্ত তারা ১৯৯৯-এ সড়ক তৈরি করেছিল। তাই এই এলাকা তাদের।ভারত বলেছে, চিনের এই কার্যকলাপ প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলএসি)-র শান্তি ও স্থিতিশীলতা সংক্রান্ত সমঝোতা লঙ্ঘন করেছে। কেননা, চলতি উত্তেজনার আগে চিনের সেনা ফিঙ্গার-৮ এর পিছনে সিরজেপ ও খুরনার ফোর্টে মোতায়েন থাকত।
সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর রীতিমত চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।যদিও এখনও পর্যন্ত এই খবর নিয়ে কোনও মন্তব্য করেনি বেজিং। এমনকি, ভারতের তরফেও কিছু জানানো হয়নি। তবে গত কয়েকমাস ধরে লাদাখে কার্যত মুখোমুখি অবস্থানে চিন। সীমান্তের দুপারেই চলছে সেনা প্রস্তুতি। এই অবস্থায় মার্কিন সংবাদমাধ্যমের বিস্ফোরক দাবি।

No comments:
Post a Comment