কবরস্থানের জন্য ১একর ৬শতক জমি দান করলেন বর্ধমান জেলার কালীকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়
সুজানা পারভিন; করোনার মহামারী সমাজকে বিচ্ছিন্ন করে দিলেও মানবতার মধ্যে থেকে ভালোবাসা মিটে যায়নি। এখনও রয়ে গেছে ধর্মের মেলবন্ধন। সেরকম এক ঘটনা পরিলক্ষিত হলো পূর্ব বর্ধমানের তালিত গ্রামের কালীকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের দ্বারা। তিনি ১ একর ৬শতক জমি দান করেন কবরস্থানের জন্য। গ্রামের মুসলিম বাসিন্দাদের কবর দেওয়ার জায়গা ছিল না সেখানে। এই নিয়ে বহুবছর ধরে অভিযোগ দায়ের হয় তাতে কোনো কাজ হয়নি। পরে এই বৃদ্ধ হাত বাড়িয়ে দেয় সাহায্যের। সেই ১ একর ৬শতক জমিতেই গড়ে ওঠে কবরস্থান এবং মৃত্যুর পর মাটি পান গ্রামের মুসলিম বাসিন্দারা।
বর্ধমান ১নং ব্লকের তালিতে হিন্দু মুসলিম দুই সম্প্রদায় বাস করে। গ্রামের পূর্ব ও দক্ষিণ পাড়ায় জায়গা ছিলনা কবর দেওয়ার। কবর দিতে যেতে হত অনেকটা দূরে। দুই পাড়ার মাঝে সাধু পুকুরের পাশেই বেশ কিছুটা জমি ছিল গ্রামের ডাঙা পাড়ার বাসিন্দা কালীকৃষ্ণ বাবুর।
অসুবিধার সময়ে তিনিই ফরিস্তা হয়ে সাহায্য করলেন। নিজের জমি দান করলেন ১একর ৬ শতক। বেশ কয়েকবছর আগে তিনি জমি দান করার পর নথিভুক্ত হয় কবরস্থান হিসেবে। দিনপাঁচেক আগে কবরস্থানে প্রবেশের পথে নজর পরার জন্য বাঁধানোর ব্যবস্থা করা হয়।
কালীকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় বলেন, কবরের জমি নিয়ে সমস্যার কথা আমাকে জানিয়েছিলেন
সেখ সরিফুদ্দিন, সেখ সাবের আলিরা।
তাই ওই জমি আমি দান করি। আমার জায়গায়
মানুষের শেষকৃত্য হচ্ছে এটা ভেবে আনন্দে ভরপুর হয় আমাদের ঐতিহ্য। ওঁরা সবাই আমাকে ভীষন সম্মান করে। আমাকে ওরা মিষ্টি দিতে এসেছিল। কিন্তু আমি মিষ্টি গ্রহণ করিনি।
কারণ আমরা সকলেই একটি পরিবার। এটা আমার কর্তব্য বলেই মনে করি।
তিনি শুধুমাত্র কবরস্থান নয় রাস্তা তৈরি করার জন্য জমি দান করেন। একে অপরের ধর্মের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ থাকেনা। তাদের উঠোন দিয়েই মহরমের ঢাল যায়। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ভালোবাসা বজায় আছে তাদের মধ্যে।

No comments:
Post a Comment