জীবনের মোড় ঘোরাতে গুরুত্বপূর্ণ বাস্তুশাস্ত্রের দক্ষিণ-পূর্ব দিক - The News Express

Breaking

The News Express

A Bengali News and Entertainment Web-Channel (24x7) The power of information

Youtube


Sunday, November 22, 2020

জীবনের মোড় ঘোরাতে গুরুত্বপূর্ণ বাস্তুশাস্ত্রের দক্ষিণ-পূর্ব দিক

জীবনের মোড় ঘোরাতে গুরুত্বপূর্ণ বাস্তুশাস্ত্রের দক্ষিণ-পূর্ব দিক

    টিএনই ডেস্ক  : প্রকৃতির শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি হচ্ছে মানুষ৷ জীবজন্তু, গাছপালা, কীটপতঙ্গ, জলচর প্রাণী থেকে মানুষ, কেউই প্রাকৃতিক নিয়মের ঊর্দ্বে নয়৷ এত উন্নত হয়েছে মানুষ তবুও প্রাকৃতিক বৃহত্তর শক্তির কাছে সে কত অসহায়৷ জীবজন্তুরা যেখানে অসহায় আত্মসমর্পণ করে সেখানে ঝড়, বন্যা, ভূমিকম্প, সুনামি, অনাবৃষ্টি, খরা, অগ্নিকাণ্ড ইত্যাদির ক্ষেত্রে বড়জোড় সে এগুলো থেকে কিভাবে কিছুটা বাঁচতে পারে তার চেষ্টাও করে চলেছে মানুষ জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রয়োগের মাধ্যমে৷মানুষের এই সভ্যতা গড়ার লক্ষ্য জীবনকে সহজতর ও সুন্দরতর করা৷ এর জন্য চাই তার উপযু্ক্ত বাসস্থান কি শহরে, কি গ্রামে৷ এবং এই বাসস্থান বা বাস্তু এমনভাবে এবং এমন ভূমিতে করতে হবে তা যেন বিপদ আপদ থেকে, প্রকৃতির রোষ থেকে আমাদের বাঁচাতে পারে এবং আমাদের জীবনের বিকাশের সহায়ক হয়৷ কোন দিকে ঘড়বাড়ির সম্মুখভাগ হবে, কোনদিকে দরজা-জানলা থাকবে, রান্নাঘর ইত্যাদি থাকবে তারও একটা শাস্ত্র আছে এবং তা হচ্ছে বাস্তু শাস্ত্র৷









         বাস্তুশাস্ত্রের মূল কথা হল বাসস্থানে কীভাবে পজিটিভ এনার্জির সঞ্চার করা যায় যাতে পরিবারে সুখ সমৃদ্ধি আসে এবং চরম দুঃখ দুর্দশা থেকে দূরে রাখা যায় পরিবারের সদস্যদের। বাস্তু নিয়ে দেশে-বিদেশে বহু বছর ধরে বিশদে গবেষণা করে আসছেন বহুজন। আমাদের প্রাচীন সাহিত্য ও ধর্মগ্রন্থতেও বাস্তুর উল্লেখ পাওয়া যায়। প্রাচীনকালের বাস্তু বিশেষজ্ঞ রাজ বল্লভের মতে ভালো বাড়ি শুধু নয়, ভালো জীবনের জন্যও বাস্তু মেনে চলা প্রয়োজন। তার জন্য যে যে বিষয়গুলির উপর তিনি গুরুত্ব দিতে বলেছেন, তা হল -

১. ইমারত যে শহরে নির্মাণ করা হবে, তারা অনুসারে তার উপযোগিতা
২. দিক নির্ণয়
৩. মাটি
৪. দিন
৫. বাস্তু পুরুষের অবস্থান অনুসারে নক্ষত্রের বিচার
                   
          ১) জমির উত্তরে এবং পূর্ব দিকে রাস্তা থাকলে তা যেন প্লট থেকে নীচু হয়। সেক্ষেত্রে বাড়ি করার সময় ভিতটি বেশ খানিকটা উঁচু করে নিতে হবে।

২) যেখানে রাস্তা টি বা ওয়াই ক্রস সেকশনে ভাগ হয়ে গিয়েছে, তার উল্টোদিকের জমি কখনও কিনবেন না। যেখানে রাস্তা বাঁক নিচ্ছে, সেই প্লটে ফ্ল্যাট কেনাও বাস্তু অনুযায়ী একেবারেই ভাল না।

৩) ব্রিজের ধারের জমি কেনা বাস্তু মতে খারাপ। আবার যে জমিতে খরার ফলে ফাটল ধরেছে তেমন জমিও কেনা উচিত নয়।

৪) অনেক বাস্তুশাস্ত্রীরা বলেন, কানাগলির শেষ প্রান্তে বাড়ি হলে সে বাড়িতে খুব সহজেই কুশক্তির বাসা হয় এবং বাড়ির মালিকের স্বাস্থ্যের অবনতি হয়।

৫) দক্ষিণ-পূর্ব দিক উঁচু হয় যে প্লটের, তেমন প্লটের বাড়িতে সুখ-সমৃদ্ধি আসে আর উল্টোটা হলে আর্থিক ক্ষতি হয়। আবার বাড়ির দক্ষিণ দিক যদি অন্যান্য দিকের থেকে উঁচু হয়, তবে বাসিন্দাদের শরীর-স্বাস্থ্য ভাল থাকে। দক্ষিণ-পূর্ব দিকে এমন কোনও উঁচু গাছ যেন না থাকে, যাতে সূর্য় আড়াল হয়।

৬) লিভিং রুমের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে একটি অ্যাকোয়ারিয়াম রাথবেন, এতে সংসারে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য আসবে।

৭) প্যাঁচা, ইগল, যুদ্ধ, ক্রুদ্ধ ব্যক্তি বা ক্রন্দনরত মহিলার ছবি ঘরের মধ্যে রাখবেন না। এমন কোনও ছবি যদি থাকে, অবিলম্বে সরিয়ে ফেলুন।

৮) বাড়ির দরজার গোড়ায় উইন্ড চাইম ঝোলান। হাওয়ায় ক্রমাগত দুলে যে মৃদু আওয়াজ তৈরি হয় তাতে বাড়ির ভিতরে পজিটিভ এনার্জির সঞ্চার হয়।

৯) বেডরুমে কোনও আয়না না রাখাই ভাল। যদি তা সম্ভব না হয় তবে এমন জায়গায় আয়না রাখুন যাতে বিছানায় শুয়ে থাকা অবস্থায় আয়নাটি কোনও ভাবেই দেখা নাযায়। বিছানার সামনে আয়না থাকলে ঘুমের ব্যাঘাত তো হয়ই পাশাপাশি পরিবারে রোগব্যাধির প্রকোপ দেখা যায়।

১০) বাড়ির দক্ষিণ-পূর্ব দিকে রান্নাঘর হওয়াই বাস্তু মতে ঠিক। তা যদি না হয় তবে অন্তত ওভেন বা স্টোভটি দক্ষিণ-পূর্ব দিকে রাখুন। আর রান্নাঘরে কখনোই ওষুধপত্র রাখবেন না।  

১১) নেমপ্লেট ছাড়া বাড়ি বাস্তু অনুযায়ী ঠিক নয়। তাই সুন্দর করে নিজের ও পরিবারের অন্যান্যদের নাম লেখা নেমপ্লেট অবশ্যই লাগাবেন।

১২) বাড়িঘর পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা হল সবচেয়ে বড় বাস্তু। মেঝে, আসবাব-পত্র ইত্যাদি ঝকঝকে তকতকে রাখবেন। বাড়ির চৌকাঠে জল না ঢালতে পারলেও দিনে একবার অন্তত মুছে নেবেন।

১৩) ইশান কোণের দিকে মুখ করে বিছানা পেতে, ওইদিকেই মাথা করে শোওয়া সবচেয়ে ভাল। না পারলে পূর্বদিকে মাথা করে শোবেন। তবে কখনোই ইশান কোণটি ব্লক করবেন না। বলা হয় বাস্তুদেবতা থাকেন ইশান কোণে। তাই সব সময় ওই কোণটি ফাঁকা রাখবেন।

১৪) বাড়িতে দিনে অন্তত একবার ধূপ জ্বালবেন এবং জানলা খুলে তাজা বাতাস ঘরে আসতে দেবেন। বাড়ির ভিতরে ভাল হাওয়া চলাচল হলে নেগেটিভ এনার্জি বাসা বাঁধতে পারে না।
             দক্ষিণ এবং পূর্ব দিকের মাঝামাঝি যে দিক, সেটিই দক্ষিণ-পূর্ব দিক। এই দিকে দক্ষিণ এবং পূর্ব দুই দিক থেকেই এনার্জি আসে। দক্ষিণ-পূর্ব দিক হল শুক্রগ্রহের দিক। আর শুক্র হল নারীর প্রতিনিধি। তাই বাড়ির দক্ষিণ-পূর্ব দিকে কোনও সমস্যা থাকলে সেই পরিবারের মহিলা সদস্য সমস্যার মধ্যে পড়বেন। ঘরের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে যদি দরজা থাকে, তাহলে পরিবারের মধ্যে রাগারাগি বেশি হবে। নানা বিষয়ে সাংসারিক অশান্তি দেখা দেবে। ঘরের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে দরজা থাকলে পরিবারের বয়স্ক মহিলা অসুস্থ হয়ে পড়বেন। ঘরের দক্ষিণ-পূর্ব দিকের দরজা যদি দক্ষিণ দিকের মুখ করে থাকে, তাহলে পরিবারের বয়স্ক মহিলার অসুস্থতা রীতিমত বাড়াবাড়ি আকার নিতে পারে। সীমানা প্রাচীরের দরজা যে দিকগুলোতে করা কোনও মতেই উচিত নয়-
১। দক্ষিণ-পূর্ব দিকের পূর্ব দিকে।
২। দক্ষিণ-পশ্চিম দিকের পশ্চিম দিকে।
৩। উত্তর-পশ্চিম দিকের উত্তর দিকে।
৪। দক্ষিণ দিকের মাঝখানে।

No comments:

Post a Comment