রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের হাতে মা জগদ্ধাত্রীর আরাধনা - The News Express

Breaking

The News Express

A Bengali News and Entertainment Web-Channel (24x7) The power of information

Youtube


Monday, November 23, 2020

রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের হাতে মা জগদ্ধাত্রীর আরাধনা

রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের হাতে মা জগদ্ধাত্রীর আরাধনা



টিএনই ডেক্স;  হিন্দুদের অন্যান্য আরাধ্য দেবীদের মধ্যে অন্যতম দেবী জগদ্ধাত্রী। দেবী দুর্গার (পার্বতী) অপর একটি রূপ হল জগদ্ধাত্রী। বিশেষ করে জগদ্ধাত্রী দেবীর আরাধনা করা হয় বঙ্গদেশে। পুরানে এই দেবীর নাম অক্ষারিত রয়েছে।
           
         মা জগধাত্রীর আরাধনা করা হয় দুর্গাপূজা হওয়ার এক মাস পরে। কার্তিক মাসের শুক্লা নবমীতে মর্ত্যে দেবীর পুজো হয়। কিন্তু এবার কার্তিক মাসে নয় অগ্রহায়ণ মাসে মা জগদ্ধাত্রীর আরাধনা।
           






           তান্ত্রিক মতে এই পুজো হয়‌। এই পুজো সপ্তমী, অষ্টমী এবং নবমী -র দিন হয়। তা বলে সকলের এক নিয়ম নয়। অনেক স্থানে নবমীর দিন তিনবার পূজা করা হয় অর্থাৎ সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমীর পুজো। আবার কোনো কোনো স্থানে প্রথম বা দ্বিতীয় পুজোর পর কুমারী পুজো করা হয়ে থাকে।
     
         দেবী জগধাত্রী ত্রিনয়নী, চতুর্ভূজা এবং সিংহবাহিনী। হাতে থাকে শঙ্খ, চক্র, ধনুক ও বান, গলায় থাকে নাগ যজ্ঞোপবীত। জগদ্ধাত্রী দেবীর বাহন সিংহ। তবে এই সিংহ হস্তীরূপ অসুরের পিঠে দন্ডায় মান। জগদ্ধাত্রী দেবির গায়ের রং সদ্য উদিতমান সূর্যের ন্যায়।
            দুর্গাপুজো বা কালীপুজোর মতো জগদ্ধাত্রী পূজার প্রচলন এত নেই। এটি বাঙ্গালীদের এক বিশেষ পুজো। অষ্টাদশ শতকে রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায় এই পুজোর প্রচলন শুরু করে। তারপর থেকেই জগদ্ধাত্রী পুজোর প্রচলন শুরু হয়। এর আগেও দেবীর পুজো হতো। এর উল্লেখ পাওয়া গেছে শূলপাণি খ্রিস্টিয় পঞ্চদশ শতকের 'কাল বিবেক' নামক গ্রন্থে কার্তিক মাসে দেবী জগদ্ধাত্রীর কথা উল্লেখিত রয়েছে। এমনকি পূর্ববঙ্গে বরিশালে এই দেবীর মূর্তি ছিল। যা এখন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশুতোষ সংগ্রহশালায় রয়েছে।
   
   কৃষ্ণনগরের পুজো- 

       নদীয়া জেলায় কৃষ্ণনগর অবস্থিত। কৃষ্ণনগরের পুজোর প্রচলন করে রাজা কৃষ্ণচন্দ্র। কিভাবে তিনি এই পুজো আরম্ভ করেন? নবাব আলীবর্দির শাসনে মহাবদজঙ্গ রাজার কাছে ১২ লক্ষ টাকা নজরানা চান। কিন্তু তা দিতে অপারগ ছিলেন রাজা। ফলে তিনি বন্দীর শিকার হন। বন্দি থেকে মুক্তি পাওয়ার পর যখন তিনি নদীপথে গমন করেছিলেন তখন তিনি বিজয়ার বাজনা শুনে হতাশ হয়ে পড়েন। যে তিনি পুজোর আয়োজন করতে পারলেননা। রাত্রিবেলায় মা দুর্গা জগদ্ধাত্রী রূপে আদেশ দেন কার্তিক মাসের শুক্লা নবমীতে  পুজোর আয়োজন করতে। ১৭৬৬ সালে দেবী জগদ্ধাত্রী পুজোর সূচনা হয়।

 চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজো-
     চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পূজো কমবেশি সকলে জানে। এই পুজোর প্রবর্তন করেন ইন্দনারায়ণ চৌধুরী। রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের ঘনিষ্ঠ ছিল ইন্দ্রনারায়ন চৌধুরী। অপরদিকে ফরাসি সরকারের চন্দননগরের দেওয়ান ছিল চৌধুরী বাবু । এই কথা আজ থেকে আনুমানিক আড়াইশো বছর আগের। চন্দননগরের দেওয়ান চৌধুরীবাবু এই পুজো ( কৃষ্ণনগরের) দেখে মুগ্ধ হয়। মুগ্ধ হয়ে লক্ষীগঞ্জ চাউলপাট্টির নিচুপাটিতে দেবী জগদ্ধাত্রী পুজো আরম্ভ করেছিলেন। চন্দননগরে আদি পুজো বলে খ্যাত এই পূজা। এখনও এই পুজোর প্রচলন রয়েছে। সনাতনরীতির প্রতিমা, সাদা সিংহ ও বিপরীতমুখী হাতির অবস্থান। কথিত আছে প্রতিমা বিসর্জন কালীন শুশুক বা সাপের দর্শন হয়। এই পুজো হল চন্দননগরের দ্বিতীয় প্রাচীনতম পূজো।
           তাছাড়াও চন্দননগরে আলোকসজ্জা জগৎখ্যাত এ নামের সঙ্গে সকলেই পরিচিত।
  
 জয়রামবাটীর পুজো- 
     চন্দননগর ছাড়াও বাঁকুড়া জেলায় মা সারদার জন্মস্থান জয়রামবাটীর জগদ্ধাত্রী পুজোর খ্যাতি রয়েছে। এই সময় শয়ে শয়ে ভক্তের সমাগম ঘটে। এই পুজোর সূচনা করে মা সারদার ‌মাতা শ্যামাসুন্দরী দেবী।

No comments:

Post a Comment