রাজ্যের ক্ষেত্রে বড় খবর বিজেপিতে যোগ শুভেন্দু অধিকারীর,শেষমেষ সম্পর্ক ভাঙলো
টিএনই ডেস্কঃ করোনার পরেও রাজনীতিতেও পরছে কোথাও সুপ্রভাব আবার কোথাও কুপ্রভাব। হচ্ছে দল পরিবর্তন, ঘটছে সম্পর্কের অবসান।
রাজনৈতিক মহলে শুভেন্দু অধিকারী কে নিয়ে কয়েকদিন আগে থেকেই চলছিল বেশ তর্ক বিতর্ক।প্রত্যেকটি সমালোচনার প্রধান বিষয় ছিলেন তিনি। সেই বিষয়ের অবসান ঘটালেন শুভেন্দু অধিকারী।
সূত্রের খবর শনিবার বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারি। সুত্রে শোনা যাচ্ছে, অমিত শাহ এর উপস্থিতিতেই শুভেন্দুর দলবদল হবে। দলবদল এর আগে শুভেন্দু ইস্তফা দেবেন বিধায়ক পদ থেকে। ইস্তফা স্পিকার গ্রহণ করলে শুভেন্দু তৃণমূলের কুড়ি বছরের বেশি সময় সম্পর্কে পূর্ণচ্ছেদ পড়বে।
ডিসেম্বরের প্রথম দিনই বৈঠক করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে হাজির ছিলেন সৌগত রায়,ভোট কুশলী প্রশান্ত কিশোর সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়রা। তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় নিজে সাংবাদিকদের ডেকে বলেন, বৈঠক অত্যন্ত ইতিবাচক সব পক্ষ একটা সাধারন জায়গায় এসেছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে তাই সব সমস্যা মিটে গেছে। তৃণমূলেরই থাকছেন শুভেন্দু অধিকারী।
অরাজনৈতিক সভা থেকে তৃণমূলকে বিরাট তোপ দাগেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন নন্দীগ্রাম আন্দোলন কোন ব্যক্তির নয় আন্দোলন ছিল জনতার। তিনি আরো জানান, কোন পদের জন্য তার লোক নেই ব্যক্তি আক্রমণ নিয়ে মুখ খুললেন শুভেন্দু । যারা তাকে আক্রমণ করছে তাদের অবস্থা অনিল বসুর মত হবে।
২০০৬ সালের শুভেন্দু বাবু তৃণমূলের টিকিটে কাঁথি দক্ষিণ বিধানসভা থেকে জয়লাভ করেছিলেন। ২০০৯ সালে তমলুক লোকসভা নির্বাচনে জয় যুক্ত হয়ে শিল্প দপ্তর এর স্থায়ী কমিটির সদস্য হন। ২০১৪ সালের নিজের আসনে জয়ী হন শুভেন্দু। ২০১৬ সালে পদত্যাগ করে নন্দীগ্রাম থেকে লড়াই করে। সেখানেও তিনি জয়লাভ করেন। পরিবহন দপ্তরের দায়িত্ব বর্তায় পরবর্তীকালে তার ওপর। রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের গ্রাম এতটা স্বচ্ছ তাকে অন্য দল লুফে নেবেই তো।
শুভেন্দু তৃণমূলের সঙ্গে সব সম্পর্ক ত্যাগ করেন ধীরে ধীরে। ২৫শে নভেম্বর তিনি প্রথম ইস্তফা দেন হলদিয়া উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে। তার দুদিন পরেই ছাড়েন মন্ত্রিত্ব। ধাপে ধাপে প্রশাসনিক পদ গুলি থেকে সরে দাঁড়ালেও শুভেন্দু তার বিধায়ক পদ ছাড়েন নি। তৃণমূলের তরফে মতপার্থক্য দূর করার চেষ্টা করা হয়েছিল সর্বত্র ভাবে। এদিকে শুভেন্দু নানা রাজনৈতিক সভা থেকেই জল্পনা শুরু শুধু বাড়িয়েছেন। তিনি বলেছেন, পান্তা ভাত মুড়ি খাওয়া ছেলেটা আদর্শের জন্য লড়ছে। কারো নাম না করেই বলেছেন, ফ্ল্যাটবাড়ি লোকজনদের অসুবিধা হচ্ছে।
সবশেষে একদিন শুভেন্দু অধিকারী বলেই ফেললেন, যৌথ প্রেস কনফারেন্সের শর্ত মানেননি দল। তাই আর একসঙ্গে পথ চলা সম্ভব নয়। হাসির চওড়া হয় বিরোধীদের, রাতারাতি শাসকদলের তুমুল আত্মবিশ্বাসের ছবিটা টাল খেয়ে যায়, আর হাসির চওড়া হয় বিজেপির। তারপর থেকে রাজ্যবাসী দিন গুনছে। আজ সেই খবর এল যার অপেক্ষায় অনেকেই ছিল, আজ এই একাঙ্ক নাটকের পরিসমাপ্তি ঘটল।

No comments:
Post a Comment