বাংলায় চলবে না এনআরসি ও এনআরপি, তোপ মমতার
টিএনই ডেস্কঃ এনআরসি এনআরপি নিয়ে বাংলায় বেশ বড়সড়ই ঝড়ঝাপটা বয়ে গেছে। এনআরসি এনআরপি নিয়ে চারিদিকে মিছিল বেরিয়েছে। সেটা নিয়ে বিরোধিতা ও চলেছে প্রচুর জায়গায়। তবে পুনরায় সেটা নিয়ে কি বললেন মুখ্যমন্ত্রী?
এনআরসি ও এনআরপি প্রয়োগ করে পশ্চিমবঙ্গে বিভেদ সৃষ্টির খেলায় নেমেছে বিজেপি। মঙ্গলবার পশ্চিম বর্ধমান জেলার রানীগঞ্জে সরকারি অনুষ্ঠানে এই অভিযোগ করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তিনি বলেন আমি বাংলাকে গুজরাত হতে দেব না গুজরাট গান্ধীর জন্য আমার শ্রদ্ধা রয়েছে কিন্তু বাংলা বাংলাতেই থাকবে এব্যাপারে আমরণ আমি সংগ্রাম চালিয়ে যাব।
তিনি বলেন, ওরা নিজের ভিতর বলেছেন এনআরসি বলবৎ করা হবে নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে আপনার ঠাকুরদার বার্থ সার্টিফিকেট চাইবে আমি জানিনা আমার মা কবে জন্মেছিলেন, আগে এরকমই চলছে একটি শিশু প্রসব করানো হতো বাড়িতে তখন তার কোন সার্টিফিকেট দেওয়া হতো না। যারা বাংলায় থাকেন, তারা সকলেই বাঙালি এবং এই বাংলারই নাগরিক।
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগের জবাবে বঙ্গ বিজেপির সহ-সভাপতি রীতেশ তেওয়ারি বলেন, আজকাল মিথ্যে বলার কৌশল ও মেনে চলছেন এবং বারবার মিথ্যা কথার পুনরাবৃত্তি ও করছেন। এর পরেও মানুষকে ভুল প্রচার না দেওয়া এবং খুনের রাজনীতি চলছে। সাম্প্রতিক কালে কোন স্থানীয় বিজেপি নেতা এনআরসি সম্পর্কে মন্তব্য করেননি।
মুখ্যমন্ত্রী হিন্দিভাষী বাসিন্দাদের জন্য বলেন, হিন্দিভাষী বাসিন্দা অধ্যুষিত পশ্চিমবঙ্গের শিল্পতালুক আসানসোল, রানীগঞ্জ এলাকায় রাজ্য কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনস্থ একাধিক সংস্থার রয়েছে যাদের মধ্যে অগ্রণী কেন্দ্র নিয়ন্ত্রিত ইস্টার্ন কোয়ালফিল্ডস বা ইসিএল। এই কারণে ভাষণের বেশিরভাগ অংশ তিনি হিন্দিতে বলেন।
তবে ইসিএল বেসরকারিকরণের ঘোষণা এখনো পর্যন্ত করেনি। যদিও মমতা ভাষণে বলেন, ওরা ইসিএলকে বেসরকারি খাতে দিতে চায়। এই বিশাল সংখ্যক শ্রমিকরা তাহলে কোথায় যাবেন? আধিকারিক কোথায় পাবেন?কেন্দ্রীয় সরকারের রেলও বিক্রি করে ছাড়বে, এমনকি যে চিত্তরঞ্জন লোকোমোটিভ ওয়ার্কস বাঁচিয়ে ছিলাম এবং সেখানে ঘণ্টায় ১৮০ কিমি গতির রেল ইঞ্জিন তৈরি হয়েছিল সেটা ও বেচে দেবে।
তিওয়ারির কথায়, রানীগঞ্জে বিপুল সংখ্যক মুসলিমদের বাস বলে তিনি এ বিষয়টি তুলে ধরেছেন। সোমবার পশ্চিম মেদিনীপুরের সভায় তিনি একথা বলেন তিনি রাজ্যে ৪০ শতাংশ ভোট নিশ্চিত করে ফেলেছে বিজেপি। আমরা ক্ষমতায় আসছি বুঝে উনি খুব ভয় পেয়েছেন।
এমনকি গতকাল অন্ডাল বিমানবন্দর সংলগ্ন টাউনশিপ নির্মাণের স্বার্থে জমি হারানো কয়েক হাজার জমির মালিককে আর্থিক ক্ষতিপূরণ ও জমির দলিল বন্টন করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই প্রকল্পে সরকার ২৭ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে প্রায় ৪৮ শতাংশ মালিকানা কায়েম করেছে বলেও ঘোষণা করেন।

No comments:
Post a Comment