সুজানা পারভিন:- যত দিন যাচ্ছে ততো বেড়েই চলেছে করোনা সংক্রমণ। তার সাথে সাথে মৃত্যুর হার ও বাড়তে থাকতো। কিন্তু আশার ব্যপার হল, রোগ সংক্রমিত হলেও মৃত্যু হার কমছে। যত দিন ফুরোচ্ছে আসতে আসতে ভাইরাসের শক্তি কমছে।
বিশেষজ্ঞরা দাবি করছেন, দ্রুত কমছে জীবাণু শক্তি। অতিমারি শুরুতে যে লক্ষাধিক মানুষ সংক্রমিত হয়ে মৃত্যু ঘটছিল; এখন সেই মৃত্যু সংখ্যা কমতে থাকছে।
ইতালির বিখ্যাত রোগ সংক্রামক বিশেষজ্ঞ মেটিও বাশেট্টি বলেছেন, তাঁদের দেশের রোগীদের শারীরিক অবস্থায় প্রমাণ দিচ্ছে, করোনার মরণ ক্ষমতা আগের থেকে কমেছে।
এমনকি যে বয়স্ক রোগীদের করোনা সংক্রমণ হয়েছিল তারাও এখন সেরে উঠেছেন। অথচ কয়েকমাস আগে বয়স্কদের করোনা সংক্রমণ দেখা দিলে তাদের বেঁচে থাকার আশা প্রায় ছিল না। তারা অল্প সময়ের মধ্যে মারা যেতেন। কিন্তু এখন ৮০-৯০ বছরের বৃদ্ধরাও ভেন্টিলেশন ছাড়াই সুস্থ হয়ে উঠছেন। আগে এঁরাই ২-৩ দিনের বেশি বাঁচতেননা। আসলে এই ভাইরাস দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে।
মানুষের শরীরে ঢুকে তৈরি হচ্ছে জেনোমের প্রতিকৃতি। আর এন এ ভাইরাস অনেক সময় নিজের পুরো জেনোমের কপি করতে পারেনা, কিছুটা বাদ যায়। এই ভাইরাসেরই ঘটে মিউটেশন। মিউটেশনে ভাইরাস নিজের গতি বাড়াই ঠিকই কিন্তু বেশি মিউটেশনের ফলে দর্বল হয়ে পড়ে ও সংক্রমণ ছড়ানোর ক্ষমতা কমে যায়।
বাশেট্টি বলেছেন, শুরুতেই মার্চ- এপ্রিলে করোনা জীবাণু ছিল জঙ্গলে একা বাঘের মতো। কিন্তু এখন তা পুরোপুরি বেড়াল হয়ে গিয়েছে। মিউটেশনের ফলে ফুসফুসের আর তেমন ক্ষতি করতে পারছে না করোনা ভাইরাস।
দিল্লির সঞ্জয় গাঁধী আয়ুর্বিজ্ঞান সংস্থার মলিকিউলার মেডিসিন অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক মদন মোহন গোডবোলেও বলেছেন, করোনা জীবাণু দর্বল হয়ে পড়েছে। ফলে সংক্রমণের সংখ্যা বাড়লেও মৃতের সংখ্যা কমছে। তিনি বলেছেন জীবাণু ২ রকমের। একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক, অন্যটি দুর্বল। বিপজ্জনক ভাইরাস ছড়ায় কম লোকের মধ্যে, দুর্বলটি ছড়ায় দ্রুত। এভাবে ২ভাইরাসের মধ্যে শুরু হয় অস্তিত্বের লড়াই, তাতে জিতে যায় দর্বল ভাইরাস। এরপর শুধু সেই টিকে থাকে, তাতে সংক্রমিত বেশি হলেও মৃত্যু হয় কম লোকের।
এই ভাইরাসের সঙ্গে সকল মানুষদের হাতছাড়া হয়না কেউ। প্রত্যেককে লড়াইয়ের জন্য তৈরি হতে হয়।
তাঁর সিদ্ধান্তে, করোনা সংক্রমনের সংখ্যা এখন দেশে দ্রুত বাড়বে ঠিকই কিন্তু আগের মতো মৃত্যু হবেনা তাতে। ভারতে করোনায় ৪৭,০০০ এর বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ১৬,৯৫,৯৮২ জন এই রোগ থেকে সেরে উঠেছেন। মৃত্যুর হার কমে হয়েছে ২.৯৬ শতাংশ।
No comments:
Post a Comment