স্বাধীনতার ৭দশকের আলোই এসে আজও কি ওরা স্বাধীন? - The News Express

Breaking

The News Express

A Bengali News and Entertainment Web-Channel (24x7) The power of information

Youtube


Saturday, August 15, 2020

স্বাধীনতার ৭দশকের আলোই এসে আজও কি ওরা স্বাধীন?


রিন্টু পাঁজা: দেখতে কেটে গেলো স্বাধীনতার ৭৩ বছর, স্বাধীনতার সাত দশক পরেও আজ সবার স্বাধীনতা কি সমান? বর্তমান ভারতবর্ষে আধুনিকতার ধাঁচে আমূল পরিবর্তন এসেছে। পরিবর্তন এসেছে, সঙ্গে এসেছে অনেক প্রশ্ন। সে ভাবে আজ মেয়েরা কি সমান স্বাধীনতা উপভোগ করতে পারে? শিশুশ্রম কি আমরা বন্ধ করতে পেরেছি, সব বাচ্চা কী স্কুল মুখ হতে পেরেছে?
বর্তমান ভারতবর্ষের বাল্য বিবাহের পরিসংখ্যান দেখেই বাল্যবিবাহের বহুল প্রভাব অনুধাবন করা যায়। ১৯৯৮ খ্রিষ্টাব্দের ‘ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর রিসার্চ অন উওমেন-ইউনিসেফ’ প্রকাশনা অনুযায়ী নমুনা সমীক্ষায় ভারতের বাল্যবিবাহ ৪৭ শতাংশের মতো ছিল। যেখানে ২০০৫ খ্রিষ্টাব্দে জাতিসংঘের বয়ানে ৩০ শতাংশ বলা হয়। পরে যা কমতে কমতে ২০০৯ এর পরে ৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছিল। ভারতের সবচেয়ে বেশি বাল্যবিবাহের হার ছিল ঝাড়খণ্ডে (১৪.১ শতাংশ)। অপর দিকে কেরালা  হল একমাত্র রাজ্য যেখানে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাল্যবিবাহের হার একদম কমে গেছে। গ্রাম্য বাল্যবিবাহের হার শহরের চেয়ে তিন গুণ বেশি। অবস্থার উন্নতি হয়েছে অনেখানি কিন্তু নির্মূল হয়নি।
ভারতবর্ষে বাল্যবিবাহের পরেই রয়েছে শিশুশ্রম, বিভিন্ন কাজ করানো হয় শিশু দের দিয়ে। অনেক ক্ষেত্রে বাচ্চারা পেটের দায়ে, সংসারের অভাব অনটনের দায়ে বিভিন্ন দোকানে কাজ করে, বিভিন্ন ইট ভাটা, বিভিন্ন কারখানা তাদের কাজ করতে দেখা যায়। আবার অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় তাদের জোর করে বিভিন্ন কাজ করানো হয়। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ভারত বর্ষের কেন্দ্র সরকার থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি চালু করা হয়েছে যেখানে বলা হয়েছে ‘বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও’ , এছাড়াও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মাননীয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর ‘কন্যাশ্রী’, ‘সবুজসাথি’ প্রকল্প। ছেলে মেয়ে দের স্কুল মুখী করার জন্য এই প্রকল্পের সূচনা করা হয়েছে। যেখানে মেয়েরা স্কুল শেষ করার পর এককালীন একটা মোটা টাকা পাবে, এর পাশাপাশি ছেলে ও মেয়ে দুই জনেই সবুজ সাথী প্রকল্পের অধীনে সাইকেল পাচ্ছে।

সরকার থেকে ছেলে মেয়েদের পড়াশোনা করার পাশাপাশি যাতে বাল্য বয়সে বিবাহ না দেওয়া হয় সেই বিষয়ে সচেতন করা হচ্ছে। চাইল্ড লাইন গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বাল্য বিবাহ রোধ করছে। যেখানে পরিবারের সদস্য দের বলা হচ্ছে বাল্য বিবাহ বন্ধ করতে। কিন্তু ঠিক উল্টো দিকে এগোচ্ছে মানুষ, অর্থাৎ বাল্য বয়সে বিবাহ দিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

এই বিষয়ে গ্রামে কিছু ব্যক্তির আমাদের জানিয়েছিলেন, ” আমরা গ্রামে থাকি, গরীব মানুষ, চাষ, দিন মজুর করে কোনো রকমে দিন চলে যায়। আমরা ভালো পাত্র পেলে বিয়ে দিয়ে দিই, মেয়ে কে বেশি দিন বাড়ি রে রাখি না।“ কারণ জানার চেষ্টা করা হলে তারা আরও বলেন “বর্তমান যুগ ভালো নয়, চারিদিকে যা হচ্ছে বাড়ি তে মেয়ে রাখতে ভয় পাই।“ সরকার থেকে বার বার অভিভাবক দের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে ছেলে মেয়ে স্কুল মুখী করতে, কম বয়সে বিবাহ না দিতে। কিন্তু সেই সামজিক পরিবেশ কি আমরা ছেলে মেয়েদের দিতে পেরেছি? সেতা বড় প্রশ্ন।
ফুল ফোটার আগেই কুড়ি অবস্থায় তুলে নেওয়া হচ্ছে ফুল গুলি, এই ফুল গুলি কে ঠিক মত যত্ন করলে এরাই একদিন দেশের মুখ উজ্জ্বল করবে। তখন বাবা মা এর মান বাড়াবে, তখন সেই বাবা মা মুখে উজ্জ্বল হাসি দিয়ে বলবে আজ আমার মেয়ে ডাক্তার, শিক্ষক। আসুন আজ ভারত বর্ষের ৭৪তম স্বাধীনতা দিবসে দাঁড়িয়ে শপথ করি ছেলে মেয়ে দের বাল্য বিবাহ বন্ধের পাশাপাশি উচ্চ শিক্ষায় আমরা আলোকিত করব॥

No comments:

Post a Comment