সুজানা পারভিন :- ভারতের এক উজ্জ্বল ও গর্বিত রূপ তৈরি করেছিলেন বিসমিল্লা খাঁ। শুধু মাত্র তাঁর সঙ্গীত জগৎই নয়, উজ্জ্বল প্রতিভা নিয়ে গর্বিত ছিলেন তিনি। ভারতরত্নে সম্মান লাভ করেছিলেন তিনি। সেই মানুষটির বাড়ি ভেঙে বহুতল শপিং মল করার উদ্যোগ নিয়েছেন পরিবার। সেই বাড়ি ভেঙে ফেলা হল নির্মম বুলডোজারের চাপে। বিসমিল্লা খাঁর বাড়িটি সংরক্ষণ করে ঐতিহ্যের নিদর্শন গড়ে তোলার কথা ছিল, কিন্তু এই আশ্বাস ভেঙে ফেলা হয়েছে।
বিসমিল্লা খাঁ- এর রেওয়াজ করার ঘরটির উপর আঘাত হানা দেয় সর্বপ্রথম। বারানসীর হাদহা সরাইয়ের বাড়িটির দোতলার একটি ঘরই সঙ্গীত উপাসনার নির্দিষ্ট একটি স্থান ছিল ওস্তাদের। তাঁর প্রতিভা তাঁকে বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দিলেও, আমেরিকা তাঁকে বিলাসবহুল বসবাসের সুযোগ করে দিলেও জীবনে শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত নিজের রেওয়াজের ঘরটি ছেড়ে যাননি তিনি।
বিসমিল্লা খাঁ ১৯৬৩ সালে বাড়িটি কিনেছিলেন। নিত্যদিনে তিনি স্নান করে বাড়ির দোতলার উপরে একটি ঘরে রেওয়াজ করতেন। ওই বাড়িতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন২০০৬ সালে। তাঁর অনুরাগী ও ছাত্ররা চেয়েছিলেন, ওস্তাদের ঘরটিকে সংরক্ষণ করে মিউজিয়াম করা হোক। তাঁর স্মারক গুলি সাজিয়ে রাখা হোক। কিন্তু কেউই এগিয়ে আসেনি এই উদ্যোগে।
এরফলে সরকারের কাছে বারবার অনুরোধ করেও কোনও ফল পাওয়া যায়নি। কোনও ভ্রুক্ষেপ করেননি সরকার। এমনকি কয়েকদিন আগে যখন বাড়ি ভাঙা শুরু হয়, তখনও নিস্ক্রিয় থেকেছিলেন সরকার।
উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব ট্যুইট করে জানিয়েছেন, "ইতিহাস ভেঙে যাচ্ছে, সরকারের একে রক্ষা করা উচিৎ"।
বাড়িটির মালিক ওস্তাদজির পাঁচ ছেলের এক ছেলে মেহেতাব হোসেনের পুত্র। তাঁর বিরুদ্ধে সন্দেহ উঠেছে বিসমিল্লার ভিটে ভেঙে ফেলার অভিযোগে। যদিও তিনি স্বীকার করেননি তাঁর কু-কর্মকান্ড। কনিষ্ঠ পুত্র নাজিম হোসেন জানিয়েছেন, তিনি উত্তরপ্রদেশের বাইরে আছেন। কয়েকদিন পরে ফিরে খবর নেবেন।
২০১৭ সালে ১৭ হাজার টাকার বিনিময়ে বিসমিল্লার চারটি মহামূল্যবান সানাই বিক্রি করে দেন বিসমিল্লার নাতি। এর মধ্যে তিনটি রূপোর সানাই ছিল। কিন্তু এর প্রতিবাদের একাংশ ঝড় উঠেছিল বিসমিল্লার অনুরাগীদের দ্বারা। বিসমিল্লা খাঁর অবদান ও গুরুত্ব তাঁর পরিবার কোনো দিনই বুঝতে চাননি।
এখন ঘরটির রেওয়াজের আসল স্থানটি ইতিমধ্যে ভেঙে গুঁড়িয়ে গিয়েছে। বাকিটা বাচানো যায় কি না সেটাই এখন দেখার।
No comments:
Post a Comment