স্বাগতা মিস্ত্রী: লকডাউনে স্কুল পড়ুয়াদের ফি মকুব না করা ও অতিমারীর মধ্যেও অতিরিক্ত হারে ভাতা আদায়-এসব নিয়ে অভিভাবকদের চাপা ক্ষোভ ছিল। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবাদ জানিয়ে সুরাহা না মেলায় ক্ষোভ বাড়ছিল। তারই বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বৃহস্পতিবার মধ্যমগ্রামে একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে চলল ভাঙচুর ও দিনভর বিক্ষোভ।বৃহস্পতিবার সকালে মধ্যমগ্রামের সুধির মেমোরিয়াল ইনস্টিটিউটে ভাঙচুর চালান অভিভাবকরা। এইদিন দীর্ঘসময় বিক্ষোভ দেখানোর পর স্কুলের গেটে ও সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর চলল।
লকডাউনের মধ্যে অনলাইনে ক্লাস চললেও ফি মকুব না করে পড়ুয়াদের কাছে বিভিন্ন খাতে বাড়তি ফি নেওয়ায় বৃহস্পতিবার সকালে মধ্যমগ্রামের সুধির মেমোরিয়াল ইনস্টিটিউটে ভাঙচুর চালান অভিভাবকরা। তাঁদের দাবি ছিল, টিউশন ফি ছাড়া সব ফি মকুব করতে হবে। কিন্তু এ নিয়ে আলোচনায় বসতে নারাজ স্কুল কর্তৃপক্ষ।দাবি সম্বলিত লিখিত চিঠির উত্তর মেলেনি।
সারাদিনে অনলাইনে ইন্টারনেট খুলে নেটচার্জ গুনতে হচ্ছে অভিভাবকদের,অথচ সারাদিনে ক্লাস হচ্ছে হাতেগোনা দুটি থেকে তিনটি। মধ্যমগ্রামের ওই ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা প্রায় দেড় সহস্রাধিক। অভিভাবকদের অভিযোগ, কোনও ভাতাই মকুব করা হচ্ছে না। তাই স্কুল কর্তৃপক্ষ তথা প্রিন্সিপালের সঙ্গে কথা বলতে পাঁচ বার স্কুলের গেটে ধর্না দিয়েছেন। কিন্তু কথা বলতে নারাজ কর্তৃপক্ষ। উল্টে অতিমারি ও লকডাউনে বিধ্বস্ত আর্থিক অবস্থায় পুরো ফি তো নেওয়া হচ্ছেই, সঙ্গে যোগ হয়েছে ল্যাবরেটরি ফি-সহ একাধিক আনুষঙ্গিক ক্লাসের ও কোর্সের ফি।লকডাউনের মধ্যে অনলাইনে ক্লাস চললেও টিউশন ফি ছাড়া অন্যান্য ফি মকুব না করে পড়ুয়াদের কাছে বিভিন্ন খাতে বাড়তি ফি নেওয়ায় অভিযোগ অভিভাবকদের। অভিভাবকদের দাবই ছিল, অতিমারির ও লকডাউনের সময় টিউশন ফি ব্যতীত সব ফি মকুব করতে হবে। টিউশন ফি ছাড়া বাড়তি ফি দিতে নারাজ অভিভাবকরা। স্কুলের সঙ্গে কথা বলতে গেলে অভিভাবকদের কপালে জুটছে ঘাড়ধাক্কা। স্কুল কী চাইছে, প্রশ্ন তাঁদের। এমতাবস্থায় জোর করে স্কুলে ঢুকতে গেলে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, তার জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেছেন তাঁরা।
স্কুল গেটে বিক্ষোভ ও ভাঙচুর নিয়ে প্রিন্সিপাল পলাশ সাহার দাবই, এটি দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। পুলিশ ও র্যাফ এসে এদিন পরিস্থিতি সামলায়। পরে প্রিন্সিপাল ও অভিভাবকদের প্রতিনিধির মধ্যে বৈঠক হয়। তিনদিন পর ফের বৈঠক করে সমস্যা সমাধানের ব্যবস্থা করার প্রস্তাব দিয়েছে পুলিশ।
No comments:
Post a Comment