গ্রামবাসী কুমির আটকে রেখে মুক্তিপণের দাবি করে ৫০ হাজার টাকা
সুজানা পারভিন:- মানুষকে আটক করে রেখে টাকা পয়সার দাবি করা হত, সেই টাকা গ্ৰহণ করে মানুষের মুক্তি দেওয়া হত। এখন কুমিরকে আটকে রেখে মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে ৫০ হাজার টাকা। এমন ঘটনা ঘটায় উত্তরপ্রদেশের মিদিয়ানা গ্রামের বাসিন্দারা। বুধবার সকাল ৯টায় তারা কুমিরটিকে উদ্ধার করে। তারা কুমিরটিকে বেঁধে রেখে বহু মূল্যের দাবি করে। জানা যায়, তিন দিন আগে দুধওয়া টাইগার রিজার্ভের বাফার অরণ্যের ঠিক পাশের একটি গ্রামে কুমির ঢুকে পড়েছে। গ্রামেরই একটি পুকুরে কুমিরটিকে সাঁতার কাটতে দেখা যায়। সকলে আতঙ্কিত হলেও পরে সেটির ফায়দা লুটে নেয়।
গ্রামবাসীরা চিন্তাভাবনা করে, কুমিরটিকে আটকে রাখলে বহুল মূল্য আমরা পাবো। ভাবনার সাথে সাথেই তারা কাজটি শুরু করলো। তারা বনবিভাগ কে জানায়, গ্রামে কুমির ঢুকে পড়েছে। উদ্ধার করে নিয়ে যেতে হলে পরিবর্তে দিতে হবে ৫০হাজার টাকা।
রিজার্ভের বাফার অঞ্চলের অফিসার অনিল জানান, কুমিরটি তুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য গ্রামবাসী আমাদের কাছে ৬০ হাজার টাকা দাবি করে। বলেছিল যে, কুমিরটি উদ্ধার করে নিয়ে আসা এটা আমাদের প্রাপ্য। গ্রামবাসীর মতামতে রাজি না হওয়াই কুমিরকে দখলমুক্ত করতে শেষমেশ পুলিশ ডাকতে হয় ও আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিতে হয়। এর পরেই গ্রামবাসী কুমির ছেড়ে দেয়।
ঘটনাটির সম্পর্কে অনিল আরও জানান,
বনবিভাগ কুমিরটি উদ্ধারের জন্য রেঞ্জার
অনিল সাহের নেতৃত্বে একটি দল পাঠায় । রাত হয়ে গেলেই কুমির টির খোঁজ বন্ধ রাখা হয়। এই ঘটনাটি ঘটার তৎকালীন শাহ সেখানে হাজির হয়, তখন গ্রামবাসীরা মুক্তিপণের দাবি করে। গ্রামবাসীদের দাবি ছিল, তারা পুকুরের জল সরিয়ে কুমিরটিকে উদ্ধার করে , প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে কুমিরটিকে বেঁধে রেখেছে। বনবিভাগের কাজ তারাই করেছে, সুতরাং টাকা তাদের কাছে প্রাপ্য। অন্তত ১৫ জন এই কাজে যুক্ত ছিলেন। প্রধান শর্মা এই বেপারে তালিকা দেন। ঘন্টা দু-এক এর পর আলোচনা করেও কোনো কাজ হয়নি। তাদের দাবি চলতেই থাকে এবং বলে, টাকা না দিলে আমরা কুমির ছাড়বো না। এতে পুলিশের গ্রেফতারের দাবি ওঠে তার ফলে তারা হার মানে এবং, সেই কুমির উদ্ধার করে খাগড়া নদীতে ছেড়ে দেন তারা।

No comments:
Post a Comment