টিএনই ডেস্ক : ' লাভ জিহাদ’ সংক্রান্ত এক মামলায় ঐতিহাসিক রায় দিল দিল্লি হাইকোর্ট। ২০ বছরের এক মহিলাকে তাঁর স্বামীর কাছে ফিরিয়ে দিয়ে আদালত জানিয়েছে, এক জন সাবালক মহিলা যেখানে খুশি থাকতে পারে, যাঁর সঙ্গে ইচ্ছা থাকতে পারে।
ইলাহাবাদ হাইকোর্টের ‘লাভ জিহাদ’ সংক্রান্ত মামলার পরই এই রায় দিল দিল্লি হাইকোর্ট। প্রিয়ঙ্কা খারওয়াড় নামে এক তরুণীকে গত বছর বিয়ে করেন সালামত আনসারি নামে এক ব্যক্তি। সালামতের শ্বশুরবাড়ির লোকের অভিযোগ, ধর্ম পরিবর্তন করিয়ে তাঁদের মেয়েকে বিয়ে করেছেন সালামত। প্রিয়ঙ্কার পরিবারের অভিযোগ খারিজ করে ইলাহাবাদ হাইকোর্ট জানিয়েছিল— কে হিন্দু, কে মুসলিম তা নিয়ে আদালতের মাথাব্যথা নেই। বিষয়টিকে এ ভাবে না দেখে দু’জন প্রাপ্তবয়স্কের সম্পর্ক হিসেবেই দেখা হচ্ছে। কে কাকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নেবেন, সেটা ওই দুই ব্যক্তির মৌলিক অধিকার।
প্রবীণ নামে এক ব্যক্তির আবেদন শুনছিল হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। যিনি দাবি করেন, গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে তাঁর বোন সুলেখাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সন্দেহভাজন হিসেবে বাবুলর নাম উল্লেখ করার পাশাপাশি হাইকোর্টে সুলেখাকে পেশ করার আর্জি জানানো হয়।ভিডিয়ো কনফারেন্সের মাধ্যমে সুলেখাকে হাইকোর্টে পেশ করা হয়। তাঁর সঙ্গে কথা বলেন বিচারপতি বিপিন সংঘি এবং বিচারপতি রজনীশ ভাটনগর। সুলেখা জানান, নিজের ইচ্ছায় বাবলুর সঙ্গে চলে গিয়েছেন এবং বাবলুকে বিয়ে করেছেন তিনি। হাইকোর্টের রেকর্ডে দু'জনকে প্রথম নাম দিয়েই চিহ্নিত করা হয়েছে। দিল্লি হাইকোর্টের বিচারক বিপিন সাংঘি এবং রজনীশ ভাটনগর ওই ২০ বছরের যুবতী সুলেখাকে ফিরিয়ে দিয়েছেন তাঁর স্বামী বাবলুর কাছে। সম্প্রতি সুলেখার পরিবারের লোকজন আদালতে পিটিশন দায়ের করে জানিয়েছিল, সুলেখা নাবালিকা এবং তাঁকে জোর করে অপহরণ করা হয়েছে। কিন্তু ভিডিয়ো কনফারেন্সে সুলেখার সঙ্গে কথা বলে বিচারকরা নিশ্চিত হন, সুলেখা যখন বাড়ি থেকে পালিয়েছিল তখন তিনি সাবালিকা। এর পরই সুলেখাকে তাঁর স্বামীর কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেয় আদালত। পাশাপাশি, সুলেখার পরিবারের লোককে কাউন্সেলিং করানোর কথাও পুলিশকে বলেছে বিচারকদের ওই বেঞ্চ।
ডিভিশন বেঞ্চ বলেন, ‘নিজেদের হাতে আইন তুলে না নেওয়া বা সুলেখা কিংবা বাবুল কাউকেই হুমকি না দেওয়ার জন্য আবেদনকারী ব্যক্তি প্রবীণ এবং সুলেখার অভিভাবকদের বোঝাবে পুলিশ। বাবলুর সঙ্গে সুলেখা যেখানে থাকবেন, সেখানকার থানার বিট কনস্টেবলের মোবাইল নম্বর সুলেখা এবং বাবলু দু'জনকেই দিতে হবে, যাতে প্রয়োজনে পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন সুলেখা এবং বাবলু।’
‘লাভ জিহাদ’ বিষয়টি নিয়ে চর্চা চরমে উঠতেই মুখ খুলেছিলেন তৃণমূলের তারকা-সাংসদ নুসরত জাহান। এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেছিলেন, ‘‘ভোট এলেই ‘লাভ জিহাদ’ শব্দটা ঘুরে ফিরে আসে। অথচ দুটো শব্দের সম্পূর্ণ বিপরীত অর্থ। কিছুতেই পাশাপাশি বসতে পারে না।’’
No comments:
Post a Comment