অপরাজিত সৌমিত্রের বিদায়ের পর পরিবারকে নিয়ে কু-মন্তব্য, আইনি পদক্ষেপ কন্যা পৌলমীর
টিএনই ডেস্ক : সোশ্যাল মিডিয়া এমনই এক জায়গা, যেখানে 'আমরা সবাই রাজা'। সবাই মোটামুটি সব জানি, সব মানি, সব বুঝি, আর সব বোঝাতেও পারি। যেন 'সব'-এর স্বর্গ এই সামাজিক মাধ্যম। তবে, 'শব' কাঁটাছেড়া করতেও কখনও পিছিয়ে থাকে না। সোশ্যাল মিডিয়ার কাণ্ড-কারখানা দেখে মেজাজ হারালেন সৌমিত্রকন্যা পৌলমী বসু। আসলে গত কয়েকদিন ধরেই প্রয়াত কিংবদন্তি অভিনেতা ও তাঁর পরিবারকে নিয়ে নানা ধরনের কুরুচিকর মন্তব্য করছে নেটিজেনদের একটা অংশ। আর সেই কারণেই ক্ষুব্ধ পৌলমী। গোটা ঘটনার বিরুদ্ধে পুলিশের দ্বারস্থ হবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
টানা ৪০ দিন বহু লড়াইয়ের পর হার মেনেছেন 'অপরাজিত'। সৌমিত্রের বিদায়ে ভেঙে গিয়েছে বহু বাঙালির মন। তাঁর শেষযাত্রায় মানুষ যেভাবে চোখের জলে সঙ্গে পা মিলিয়েছে, তাতে বাস্তবেই বোঝা যায় 'স্বজন' হারা হল বাঙালি। পিতৃশোক এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেননি, কিন্তু এর মাঝেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বাবা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় ও তাঁর পরিবারকে নিয়ে কুরুচিকর পোস্ট দেখে তিতিবিরক্ত কন্যা পৌলমী বসু। আর সেই কারণেই ক্ষুব্ধ পৌলমী এবার আইনি পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।এর আগেও যখন প্রবীণ অভিনেতা হাসপাতালের বেডে লড়ে যাচ্ছিলেন, সেই সময়ও সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর পরিবারকে নিয়ে বিভিন্ন রকম কুৎসা রটে চলছিল। পৌলমীর জানিয়েছিলেন, হাসপাতালের বেডে তাঁর বাবা যখন গুরুতর শারীরিক পরিস্থিতির সঙ্গে লড়ছেন, ঠিক এই সময়েও কিছু মানুষ তাঁদের বিরুদ্ধে নানা কুকথা চালিয়ে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, ভুল খবরও ছড়িয়ে বেড়াচ্ছেন। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পরও তার অন্যথা হয়নি। এখনও সেই একইরকমভাবে কুৎসিত পোস্ট ছড়িয়ে চলেছে। যেসব দেখে রীতিমতো তিতিবিরক্ত কন্যা পৌলমী বসু। তাই এবার যদি এসব বন্ধ না হয়, তাহলে সোজাসুজি পুলিশের দ্বারস্থ হবেন বলেও জানিয়ে দিয়েছেন।
অপরাজিত অভিনেতার মৃত্যুর পর ব্যক্তিগত শোক ভুলে অনুরাগীদের শক্ত হতে বলেছিলেন সৌমিত্রকন্যা-নাট্যকর্মী পৌলমী। তবে গত কয়েকদিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটা অংশ প্রয়াত অভিনেতা ও তার পরিবার নিয়ে কুরুচিকর এবং বিভ্রান্তিমূলক পোস্ট ছড়াচ্ছে। পৌলমী ফেসবুকে লেখেন, 'এই অর্ধসত্য খবর মানে বোকামি। কবে থাকবে এই নোংরামো? তারকাদের পরিবারকে নিয়ে মানুষ যা ইচ্ছা তাই বলা যায়...সোশ্যাল মিডিয়া বলে যা খুশি...!' সেখানেই তিনি কমেন্টে জানান, এ বিষয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হবেন তিনি। জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই লালবাজারের সাইবার ক্রাইম বিভাগে অভিযোগ জানিয়েছেন পৌলমী। ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ''কিছু ক্রিনশট দিচ্ছি। এগুলো এড়িয়ে যাওয়া যেতেই পারে। আমি একটুও বিচলিত নই, কিন্তু ভুলভাল খবরের একটা লিমিট থাকে। বিশেষত যখন আমার বাবা ভয়ঙ্কর লড়াই করছেন। তখন কিছু মানুষ সত্যিটা না জেনে কুৎসা করছেন। দেখুন আপনারা, লিঙ্কও দিলাম।'' নিজের পোস্টের সঙ্গে একটি এমন কুরুচিকর পোস্টের লিংক দিয়েছিলেন পৌলমী। পৌলমী বসু যেটি শেয়ার করেছেন, তাতে দেখা যাচ্ছে, ''সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের মেয়েকে চেনেন?'' বলে একটি খবর হয়েছিল। তাতে কিছু লোকজনের প্রতিক্রিয়ার স্ক্রিনশট শেয়ার করেছেন পৌলমী। যেখানে কিছু কুরুচিকর লোকজন লিখেছেন, ''সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় আমাদের গর্ব, কিন্তু তাঁর মেয়ে বাবার নাম ভাঙিয়ে নাটকে সুযোগ পান...''। ''সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় ও উত্তম কুমার কারোর ছেলেই মানুষ হয়নি...''। কিন্তু সেটি লাগাতার রিপোর্ট হওয়ার কারণে সরিয়ে দিয়েছে ফেসবুক। যদিও এই পোস্টগুলি হোয়াটসঅ্যাপেও ভাইরাল হয়েছে। পৌলমীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন নেটপাড়ার বহু মানুষ।
মঙ্গলবার ১৭ নভেম্বর, প্রয়াত বাবার শ্রাদ্ধ-শান্তির অনুষ্ঠান করেন পৌলমী। দক্ষিণ কলকাতার এক মঠে হয়েছে ওইদিনের ধর্মীয় অনুষ্ঠান। এই সম্পর্কে পৌলমী বসু জানিয়েছেন, ‘এই জায়াগাটা বেশ সবুজে পরিপূর্ণ। বাবার যদিও ধর্মীয় ক্রিয়াকলাপে খুব একটা বিশ্বাস ছিল না। পরলৌকিক আচারের আনুষ্ঠানিকতাতে কোনও ভক্তি ছিল না, তবুও যেহেতু মা মানেন- তাই ধর্মীয় অনুষ্ঠানটি করতে হলো। একটা লম্বা টানাপড়েনের পর আমিও একটু শান্তি অনুভব করছি। ’অন্যদিকে বুধবার ১৮ নভেম্বর, কংগ্রেস সংসদ সদস্য অধীর রঞ্জন চৌধুরী প্রয়াত অভিনেতার গলফ গ্রিনের বাড়িতে হাজির হন। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী অভিযোগ করলেন, ‘সৌমিত্রবাবুর মরদেহ নিয়ে বাংলায় ‘নাটক’ হলো। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার সৌমিত্রবাবুকে বিভিন্ন পদ থেকে অপসারণ করেছিল। ’

No comments:
Post a Comment