টিএনই ডেস্ক : এরাজ্যে বিরোধীদের একসঙ্গে জগাই, মাঝাই আর গদাই বলে আগেও সম্বোধন করতে দেখা গিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। বুধবার বাঁকুড়ার জনসভাতেও সেই একই সমীকরণের কথা বললেন তৃণমূলনেত্রী। তবে এবারের জনসভায় কেবল বিজেপিকেই হাইলাইট করেননি তৃণমূলনেত্রী, সহযোগী হিসাবে আক্রমণ শানিয়েছেন সিপিএমের দিকেও। বাঁকুড়ায় সিপিএমের অত্যাচারের স্মৃতি সুচারু ভাবে মানুষের মধ্যে উস্কে দিতে চেয়েছেন।বাঁকুড়ার জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী আজ ধারে-ভারে তীব্র রাজনৈতিক বক্তব্য রেখেছেন। সেখানে তাঁর আক্রমণের নিশানায় এ রাজ্যের তিনদলই-- বিজেপি-কংগ্রেস-সিপিএম। ছেড়ে দেননি নিজের দলকেও।
বুধবার বাঁকুড়ার জনসভাতেও সেই একই সমীকরণের কথা বললেন তৃণমূলনেত্রী। তবে এবারের জনসভায় কেবল বিজেপিকেই হাইলাইট করেননি তৃণমূলনেত্রী, সহযোগী হিসাবে আক্রমণ শানিয়েছেন সিপিএমের দিকেও। বাঁকুড়ায় সিপিএমের অত্যাচারের স্মৃতি সুচারু ভাবে মানুষের মধ্যে উস্কে দিতে চেয়েছেন। এদিন জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী দিয়েছেন লোভী আর ভোগীর তত্ত্বও। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায় এরাজ্যে সিপিএম লোভী আর বিজেপি ভোগী। নারদা, সারদার মত দুর্নীতি থেকে মুক্তি পেতে এখন সেই লোভীরাই ভোগীদের পায়ে গিয়ে পড়েছে। সিপিএমের দুষ্কৃতীরাই রং পাল্টে এখন গেরুয়া শিবিরের সিপাহী হয়েছে।
ভোট এলেই বাতাসে টাকা ওড়ে। এ বিষয়ে বিজেপির দিকেই অভিযোগের তির তাঁর। বলেন, ফোন করে টাকার অফার দেয় ওরা। আর সেই প্রসঙ্গেই শুধু সম্ভাব্য দাতা নয়, সম্ভাব্য গ্রহীতার কথাও বলেন তিনি। নিজের দলের এক অংশের দোলাচলে থাকা নেতাদের সমালোচনা করে তিনি জানান, 'তৃণমূল কংগ্রেস করতে হলে ত্যাগী হতে হবে। লোভী হওয়া চলবে না।' আর তারপরই তিনি বলে দেন-- সিপিএম হল লোভী, বিজেপি ভোগী আর তৃণমূল ত্যাগী।
বাঁকুড়ার শুনুকপাহাড়ির ওই সভায় একযোগে আক্রমণ করলেন বামেদেরও। জানালেন, সিপিএমের হার্মাদরা আজ বিজেপির হার্মাদে পরিণত। সিপিএমের অল্পই সমালোচনা করেন তিনি। কিন্তু রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আবহের প্রেক্ষিতে বিজেপির সমালোচনা কাঙ্ক্ষিত ছিল, আর তা করেছেনও মমতা। টাকা ছড়ানো, ধমকানো-চমকানো, জেলে ভরে দেওয়া, বিহার ভোট প্রসঙ্গে নানা মন্তব্য করে মমতা গো-প্রসঙ্গও টেনে আনেন। বলেন, 'ওরা (বিজেপি) বলছে, গোমূত্রে করোনার আরোগ্য হয়। হল কই? বলছে, গোমূত্রে সোনা আছে। তাই যদি হয়, আমি আপনাদের গোরু দেব। আপনারা সোনা করুন। ওরা গোবর নিয়ে কথা বলছেন, আরে, আগে তো ঘুঁটে দেওয়া শিখুন, তারপর তো গোবর!'
বিজেপিকে একটি 'অপদার্থ' রাজনৈতিক দল বলেন তিনি। বলেন, ওরা দেশে বেকার বাড়িয়ে দিয়েছে ৪০ শতাংশ, রেল-কয়লা-বিমান সব প্রাইভেট করে দিচ্ছে, এমপিল্যাডের টাকা পর্যন্ত বন্ধ। বাঁকুড়া শান্তিতে আছে, সেটা সহ্য হচ্ছে না বিজেপির। বলেন, বছরে একদিন এপ্রিল ফুল হয়, কিন্তু বিজেপি-র ৩৬৫ দিনই এপ্রিল ফুল, ৩৬৫ দিনই মানুষকে বোকা বানায় ওরা। শেষে বিজেপিকে 'গারবেজ অফ লাইজ', মিথ্যার ডাস্টবিন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সাম্প্রতিক বাঁকুড়া সফরে এসে তফশিলি গৃহে মধ্যাহ্নভোজন করেন অমিত শাহ। এদিন সেই নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেন তিনি। বলেন, তফশিলি বাড়িতে রান্না করে নিয়ে এসে খেয়েছেন অমিত শাহ। ‘পাঁচতারা হোটেল থেকে এসেছে খাবার।’
মমতা জানান, ‘বাঁকুড়ায় চারটি মাল্টি স্পেশালিটি হাসপাতাল হয়েছে। ৩৫-৪০ কোটি টাকা ভাড়ায় ৩০০ ট্রেনে পরিযায়ীদের ফিরিয়েছি।’ তাঁর প্রতিশ্রুতি, ‘অনুর্বর জমি উর্বর করে ২৫ লক্ষ যুবক-যুবতীদের চাকরি দেব।’
No comments:
Post a Comment