ঘরোয়া উপায়ে ব্লাকহেডস দূর করুন চিরতরে
টিএন ই ডেস্ক : ব্ল্যাকহেডস নিয়ে সমস্যায় পড়েননি এমন মহিলা কিন্তু খুঁজে পাওয়া দায়। আর এই সমস্যার সমাধান চিরতরে মিটে গেছে এমনটাও কেউ বলেন না। একবার ব্ল্যাকহেডস দূর করার পর আবারও হতে পারে। কিন্তু এই ব্ল্যাকহেডস আসলে কি? আমাদের নাকের দু’পাশে, কপালে, গালে, চিবুকে যে ছোট ছোট বাদামি/ কালো এবং ত্বকের থেকে অল্প উঁচু অংশ থাকে তাকেই ব্ল্যাকহেডস বলে৷
কিন্তু এই ব্ল্যাকহেডস আসলে কি?
আমাদের নাকের দু’পাশে, কপালে, গালে, চিবুকে যে ছোট ছোট বাদামি/ কালো এবং ত্বকের থেকে অল্প উঁচু অংশ থাকে তাকেই ব্ল্যাকহেডস বলে৷ এগুলো আর কিছুই না, তেল-ময়লা জমে বন্ধ হয়ে যাওয়া ত্বকের ছিদ্র এবং মৃত কোশের সমষ্টি, বাতাসের অক্সিজেনের সংস্পর্শে এসে তা কালো হয়ে যায়৷ অনেকে নখ দিয়ে চেপে ব্ল্যাকহেডস বের করার চেষ্টা করেন, কেউ কেউ স্ট্রিপ লাগিয়ে তা তুলে ফেলেন৷ তবে তাতে ব্যথা লাগে, দাগ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে৷ এমনকী হতে পারে ইনফেকশনও। আর তাই ব্ল্যাকহেডস তুলতে হলে ঘরোয়া পদ্ধতি অবলম্বন করাই ভালো। এতে ত্বকও ভালো থাকবে। তবে অনেক পার্লারেই ধাতব একটি পাত দিয়ে নাকের দুপাশে চাপ দিয়ে ব্ল্যাকহেডস তুলে দেওয়ার কথা বলেন। এই পদ্ধতি কিন্তু ঠিক নয়।
হলুদের ব্যবহার:
রূপচর্চায় ক্ষেত্রে প্রাচীন কাল থেকেই হলুদের ব্যবহার হয়ে আসছে। ঘরোয়া চিকিৎসাতেও হলুদের নানা রকম ব্যবহার আমরা অনেকেই জানি। অসাধারণ ওষধিগুণসম্পন্ন এই হলুদ ব্ল্যাকহেডস দূর করতেও অত্যন্ত কার্যকর। আসুন জেনে নেওয়া যাক ব্ল্যাকহেডস-এর সমস্যা দূর করতে হলুদের দুটি অবিশ্বাস্য ব্যবহার...
পদ্ধতি ১: প্রথমে পুদিনা পাতা বেটে রস করে তার সঙ্গে গুঁড়ো হলুদ বা বাটা হলুদ দিয়ে ঘন মিশ্রণ তৈরি করে নিন। এ বার এই মিশ্রণ ত্বকের ব্ল্যাকহেডস আক্রান্ত জায়গাগুলিতে ভাল করে মাখিয়ে দিন। এই প্রলেপ শুকিয়ে গেলে হালকা গরম জল দিয়ে ধুয়ে নিন।
পদ্ধতি ২: হলুদ, চন্দনের গুঁড়ো এবং কাঁচা দুধ একসঙ্গে মিশিয়ে ঘন করে মিশ্রণ তৈরি করে নিন। এই মিশ্রণ ত্বকের ব্ল্যাকহেডস আক্রান্ত স্থানে মাখিয়ে অন্তত মিনিট পনেরো রাখুন। তার পর জল দিয়ে ভাল করে ধুয়ে নিন।
মধুর ব্যবহার:
মধু একটি উচ্চ ওষধিগুণসম্পন্ন ভেষজ তরল। ভেষজ পদ্ধতিতে রূপচর্চার ক্ষেত্রে যুগ যুগ ধরে মধু ব্যবহৃত হয়ে আসছে। রূপচর্চায় মধু আজও অপরিহার্য। চলুন, জেনে নেওয়া যাক মধু দিয়ে কী ভাবে ব্ল্যাকহেডস দূর করা যায়...
প্রথমে মুখ ভাল করে ধুয়ে নিন। এ বার পরিষ্কার মুখে ব্ল্যাকহেডস আক্রান্ত অংশে ভাল করে মধু মাখিয়ে রাখুন। শুকিয়ে গেলে সামান্য উষ্ণ জলে মুখ ধুয়ে ফেলুন। মধু ত্বককে কোমল রাখার পাশাপাশি লোমকূপকে সংকুচিত রেখে ত্বককে টানটান রাখতে সাহায্য করে। ফলে ব্ল্যাকহেডস-এর সমস্যা থেকে দ্রুত মুক্তি পাওয়া।
আলুর ব্যাবহার :
একটি মাঝারি মাপের আলু, এক চামচ আপেল সিডার ভিনিগার ও জল।
পদ্ধতি:
আলুগুলোকে টুকরো করে কেটে অ্যাপেল সিডার ভিনিগারে কিছু ক্ষণ ডুবিয়ে রাখুন। ভিনিগার মেসানো সেই আলুগুলিকে মিক্সিতে ব্লেন্ড করে আইস ট্রে-তে রেখে দিন। কিছু ক্ষণ পর এগুলি ঠান্ডা হয়ে বরফের মতো জমাট বেঁধে যাবে। এ বার ভাল করে মুখ ধুয়ে সেই কিউবগুলি নিয়ে ব্ল্যাকহেড আক্রান্ত জায়গায় দিনের মধ্যে বার তিনেক মাসাজ করুন। সপ্তাহ খানেক এ ভাবে যত্ন নিলেই ব্ল্যাকহেডস এর সমস্যা কমবে।
কলা ও মধুর ব্যাবহার:
একটি কলা পেস্ট করে নেওয়া,দুই টেবিলচামচ ওটসের গুঁড়ো,১ টেবিল চামচ মধু
পদ্ধতি:
প্রথমে একটি পাত্রে গুঁড়ো করা ওটস নিন। ওর মধ্যে কলা এবং মধু দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি মুখের সব জায়গায় সমান ভাবে মেখে নিন। এ বার গোলাকার ভাবে ৫ থেকে ৭ মিনিট হাল্কা হাতে ম্যাসাজ করুন। সবশেষে উষ্ণ গরম জল দিয়ে ধীরে ধীরে তুলে ফেলুন। এরপরে কোনও হালকা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে পারেন।
এছাড়াও-
শুষ্ক ও স্বাভাবিক ত্বক:- শুষ্ক ও স্বাভাবিক ত্বকের ক্ষেত্রে প্রথমে কাঠবাদাম ও দুধের পেস্ট তৈরি করে লাগিয়ে নাকের অংশটুকু নরম করে নিতে হবে। ৫-৭ মিনিট পর ম্যাসাজ করে গরম জলে তুলা ভিজিয়ে মুছে নিয়ে প্যাক লাগাতে হবে। ডিমের কুসুম, আধা চা-চামচ গ্লিসারিন আর ১ চা-চামচ ভাজা গমের গুঁড়ামিশ্রিত প্যাক কিছুক্ষণ রেখে ধুয়ে ফেলতে হবে।
মিশ্র ত্বক:- অ্যালোভেরা ও তোকমা ভালোভাবে ব্লেন্ড করে পেস্ট করে ৫-৭ মিনিট নাকে বা আক্রান্ত স্থানে লাগিয়ে রাখতে হবে। এরপর কুসুম গরম জল দিয়ে ধুয়ে ১ চা-চামচ গ্রিন টি, আধা চা-চামচ বাদামবাটা, ১ চা-চামচ বেসন পেস্ট করে লাগাতে হবে। সপ্তাহে একদিন এইভাবে যত্ন নিলে ব্ল্যাকহেডসের সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়া যাবে।
ব্ল্যাকহেডস ফিরে আসা রোধ করতে প্রতিদিন অন্তত দুবার মুখ পরিষ্কার করতে হবে। এতে ত্বকের ময়লা দূর হয়। যে তেল পরিষ্কার লোমকূপের মুখ বন্ধ করে রাখে, তা সরে যায়। সপ্তাহে একবার ভালো করে স্ক্র্যাবার দিয়ে মুখ স্ক্র্যাব করতে হবে। তাহলে ব্ল্যাকহেডসও বিদায় জানাবে আপনাকে।

No comments:
Post a Comment