ছটের দূষণ রুখতে আগেই টিন দিয়ে ঘেরা হল রবীন্দ্র সরোবরের একাংশ
টিএনই ডেস্ক : কলকাতার রবীন্দ্র সরোবর ও সুভাষ সরোবরে ছট পূজার উপাচার পালনে নিষেধাজ্ঞা বলবৎ রাখল সু্প্রিম কোর্ট। এ ব্যাপারে গ্রিন ট্র্যাইব্যুনালের দেওয়া নির্দেশে কোনও স্থগিতাদেশ দিল না আদালত। এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে ছট পূজার ৩ দিন পরে। ফলে এবছর ২ হ্রদে ছট পূজার অনুমতি পাওয়া অসম্ভব বললেই চলে।
রবীন্দ্র সরোবর ও সুভাষ সরোবরে ছট পূজার ওপর গ্রিন ট্র্যাইব্যুনালের নির্দেশের ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে KMDA-র করা মামলার শুনানি ছিল সুপ্রিম কোর্টে। সেই শুনানিতে KMDA-র আবেদন খারিজ করে দেন বিচারপতি ইউ ললিত। সঙ্গে জানান আগামী ২৩ নভেম্বর বিচারপতি ফালি নরিম্যানের বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হবে।
রবীন্দ্র সরোবরে ছটপুজো আটকাতে কী কী করণীয়, তা খতিয়ে দেখতে মঙ্গলবার ওই সরোবর এলাকা পরিদর্শন করেন ডিসি (সাউথ-ইস্ট) সুদীপ সরকার। সরোবর চত্বরে ঢোকা ও বেরোনোর কতগুলি রাস্তা রয়েছে, থানার আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে তা ঘুরে দেখেন তিনি। জাতীয় পরিবেশ আদালতের নিষেধাজ্ঞাকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়ে গত দু’বছর রবীন্দ্র সরোবর ও সুভাষ সরোবরে ছটপুজো করেছেন পুণ্যার্থীরা। জাতীয় পরিবেশ আদালত ও কলকাতা হাইকোর্টও নির্দেশে রবীন্দ্র সরোবরে ছট পুজো নিষিদ্ধ।লেক গার্ডেন্স ও টালিগঞ্জ স্টেশনের দিকে ঘেরার কাজ শুরু করেছে কেএমডিএ। স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার তরফে সরোবরের গেটে টাঙানো হয়েছে সতর্কতামূলক পোস্টার।রবীন্দ্র সরোবরে ছট পুজোতে বিশৃঙ্খলা এড়াতে আগেই টিন দিয়ে ঘেরা হল রবীন্দ্র সরোবরের একাংশ।
রবীন্দ্র সরোবর ও সুভাষ সরোবরে ছটপুজো আটকাতে তালা ঝোলানোর পরিকল্পনা করছে প্রশাসন। বিকল্প হিসেবে বিভিন্ন এলাকার কিছু ছোট জলাশয়কে চিহ্নিত করা হচ্ছে। কিন্তু পরিবেশকর্মীদের বক্তব্য, তালা তো গত বছরও ঝোলানো হয়েছিল। তা সত্ত্বেও গেট ভেঙে পুণ্যার্থীরা ঢুকে পড়েছিলেন। তাই এবছর লালবাজারের নির্দেশ মেনে নিজের ডিভিশনের ওসি এবং এসি-দের প্রয়োজনীয় সমস্ত রকম ব্যবস্থা নিতে বলেছেন ডিসি-রা। প্রতিটি থানাকে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট এলাকায় যাঁরা ছটপুজো করবেন, তাঁদের হাইকোর্টের নির্দেশ সম্পর্কে বিশদে বোঝাতে হবে পুলিশকর্মীদের। প্রয়োজনে বার বার তাঁদের সঙ্গে আলোচনায় বসে দূষণ না করে ছটপুজো করার সমস্ত বিধি-নিষেধের কথা বুঝিয়ে বলতে হবে। থানাগুলি জানিয়েছে, রোজই তারা আলোচনায় বসছে।

No comments:
Post a Comment