টিএনই ডেস্ক : এক সময়ে চালুর তোড়জোড় ছিল,আর এখন প্রস্তুতি ঝাঁপ বন্ধের। উৎসবের মরসুমেও এখন করোনা সংক্রমণ নিম্নমুখী। কমছে দৈনিক সংক্রমিতের সংখ্যাও। দ্রুত হারে সংক্রমণ কমছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায়ও। বাড়ছে সুস্থতার হার। জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ৭ দিনে পশ্চিম মেদিনীপুরে করোনা সংক্রমিত হয়েছেন মাত্র ৩৬৩ জন। ১৪ নভেম্বর থেকে গতকাল অর্থাৎ ২০ নভেম্বর পর্যন্ত জেলায় সংক্রমিতের সংখ্যা যথাক্রমে- ৪৩, ২৫, ৪৫, ৭৮, ৫০, ৫৫, ৬৭। প্রতিদিন গড়ে করোনা সংক্রমিত মাত্র ৫২ জন। প্রতিদিন গড়ে টেস্ট হচ্ছে ৮০০-৯০০ টি। সুতরাং, প্রতি ১০০ টি নমুনাতে সংক্রমিত হচ্ছেন ৬ থেকে ৭ জন। যেটা আগে ছিল ৯ থেকে ১১ জন। সর্বোপরি, কমেছে মৃত্যুর হারও। উন্নত হয়েছে স্বাস্থ্য পরিকাঠামোও।
ঠিকঠাক থাকলে আজ, শনিবার থেকে বন্ধ হবে ‘আয়ুষ স্যাটেলাইট কোভিড হাসপাতাল’। শুক্রবার থেকেই তাঁতিগেড়িয়ার এই হাসপাতালটি রোগীশূন্য হয়ে পড়েছে। মেদিনীপুরের আবাসের অদূরে ‘আয়ুষ কোভিড হাসপাতাল’ রয়েছে। কার্যত এই হাসপাতালেরই দ্বিতীয় ক্যাম্পাস হিসেবে কাজ করত বন্ধ হতে চলা করোনা হাসপাতালটি।
জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরের উদ্যোগে গত আগস্ট মাসে তাঁতিগেড়িয়ায় আয়ুষ স্যাটালাইট হাসপাতালে রোগী ভর্তি শুরু হয়। সেখানে আটজন চিকিৎসক, নার্স এবং ১৬ জন নিরাপত্তাকর্মী ছিলেন। পুজোর পর আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা ছিল। সেই মতো জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরের পক্ষ থেকে সবরকম প্রস্তুতি রাখা হয়েছিল। কিন্তু, বাস্তবে পুজোর পর জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়েনি, বরং যত দিন গিয়েছে, জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা কমতে শুরু করেছে।
আগস্ট মাস নাগাদ জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় আয়ুষ, শালবনী হাসপাতাল ছাড়াও ঘাটাল হাসপাতাল, আয়ুষ স্যাটালাইট কোভিড হাসপাতাল, ডেবরা সেফ হোম এবং খড়্গপুর সেফ হোম চালু করা হয়েছিল। সেখানেই নিয়মিত রোগী ভর্তি হচ্ছিল। কিন্তু, আক্রান্তের সংখ্যা কমতে থাকায় হাসপাতালে রোগী ভর্তি হওয়ার সংখ্যা কমতে শুরু করেছে।বেশিরভাগ উপসর্গহীন এবং স্বল্প উপসর্গযুক্তরা গৃহ নিভৃতবাসে থাকতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন বলে জানিয়েছেন জেলাশাসক ডঃ রশ্মি কমল থেকে শুরু করে জেলার স্বাস্থ্য আধিকারিকরা। গত কয়েকদিন ধরে আয়ুষ স্যাটালাইট কোভিড হাসপাতাল এবং ডেবরা সেফ হোমে একজনও রোগী ভর্তি হননি। আয়ুষ কোভিড হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সদের অন্য করোনা হাসপাতালে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
No comments:
Post a Comment