টিএন ই ডেস্ক : একদিন আগেই রাজ্যের মন্ত্রী সভা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তার উপরে রাজ্যের সেচ, পরিবহণ এবং জলসম্পদের মতো গুরুদায়িত্ব ভার অর্পিত ছিল।মুখ্যমন্ত্রী নিজেই ওই তিন পদের দায়িত্বভার নিজের কাঁধে তুলে নিলেন।
একদিন আগেই যেন সব জল্পনা-কল্পনার অবসান হল। শুভেন্দুবাবুকে নিয়ে গত কয়েক মাসে কম চর্চা হয়নি। তিনি পদত্যাগ করবেন কিনা, তিনি তৃণমূল ছাড়ছেন কিনা, তিনি অন্য কোন দলে যোগ দেবেন কিনা, তা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। তাঁর মান ভাঙাতে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন ভোট বিশেষজ্ঞ, তৃণমূলের পরামর্শদাতা প্রশান্ত কিশোর। তার সঙ্গে কথা বলেছিলেন তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় তাদের মধ্যে দীর্ঘক্ষন কথা হয়। অন্যদিকে প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে তাঁর কোনও কথা হয়নি। তবে জানা গিয়েছিল, তাঁর বাবা শিশির অধিকারী সঙ্গে প্রশান্ত কিশোরের বেশ কিছুক্ষণ কথা হয়। এরপর উনি কী করবেন, এ নিয়ে এবার চর্চা শুরু হয়েছে।শুভেন্দু অধিকারী মন্ত্রিসভা ছাড়ার পর তার দায়িত্বে থাকা তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদের ভার প্রাথমিকভাবে দলীয় নেতৃত্বদের মধ্যেই বন্টন করে দেওয়ার ভাবনা চিন্তা চলছিল নবান্নে।
শুক্রবার বিকেলে শুভেন্দু অধিকারীর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করার পরই জরুরি বৈঠকে দলের শীর্ষনেতাদের নিজের বাড়িতে ডেকে পাঠান মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকে ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী তথা তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়, সভাপতি সুব্রত বক্সি, দুই মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, ছিলেন যুব তৃণমূল সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। সেখানে প্রায় ঘণ্টা দুই ধরে বৈঠকের পর ঠিক হয় দপ্তর বণ্টনের বিষয়টি।
এক্ষেত্রে ফিরহাদ হাকিম বা অরূপ বিশ্বাসকে পরিবহন দপ্তরের ভার দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে সেচ দপ্তরের দায়িত্ব অর্পণের কথা ভাবা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে সেই সিদ্ধান্তে বদল আনা হয়। কারণ পুর, নগরোয়ন্নয়ন দপ্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন ফিরহাদ হাকিম।অরূপ বিশ্বাসের উপর এমনিতেই ক্রীড়া এবং যুব কল্যাণ দপ্তরের ভার রয়েছে। পাশাপাশি তৃণমূলের সংগঠনেও তারা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলান। এমতাবস্থায় তাদের উপর আর নতুন করে দায়িত্ব দিতে রাজি নয় নবান্ন। তাই শেষমেষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই ওই তিন দপ্তরের দায়িত্ব নিজ স্কন্ধে তুলে নিলেন।এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
No comments:
Post a Comment