টিএনই ডেস্ক : 'অভিষেককে মানি না'- প্রবল আপত্তি জানিয়ে বেঁকে বলেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। শেষে তাঁকে আটকাতে মঞ্চে অবতীর্ণ হতে হল দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই। মঙ্গলবার প্রায় ঘণ্টা তিনেকের বৈঠকে টিম পিকেও ব্যর্থ হয়ে গিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত সৌগত রায়ের ফোন থেকে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলেন শুভেন্দু অধিকারী। তাতেই কাজ হয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। শুভেন্দু তৃণমূলেই থাকছেন। শিশির অধিকারী থেকে সৌগত রায় দুই শীর্ষ নেতাই এক সুরে মন্তব্য করেছেন।
বৈঠকের মাঝে অভিষেকের ফোন থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা শুভেন্দু অধিকারীর। অভিষেকের তরফে ‘আন্তরিক ভাবে’ একসঙ্গে দল চালানো এবং কাজ করার আহ্বান। দলনেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতার তরফেও একসঙ্গে সকলে মিলে দল চালানোর কথা। মঙ্গলবার রাতে এই দু’টি কথোপকথনে কি রাজ্য রাজনীতির মোড় ঘুরল? এখনও তা নিশ্চিত করে বলার সময় আসেনি। তবে প্রবীণ তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়ের সেটাই দাবি। একই রকম আশাবাদী গোটা তৃণমূল শিবিরও। কারণ, যুযুধান দু’পক্ষ অভিষেক-শুভেন্দুর অবশেষে মুখোমুখি আলোচনায় বসা। এবং পাশাপাশিই অবশেষে ফোনে হলেও বেশ কয়েকমাস পর মমতা-শুভেন্দু কথা।
মঙ্গলবার রাতে উত্তর কলকাতার শ্যামবাজারের কাছে একটি বাড়িতে ওই বৈঠকে অভিষেক, শুভেন্দু ছাড়াও ছিলেন তৃণমূলের দুই সাংসদ সৌগত এবং সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে ছিলেন তৃণমূলের ভোট কৌশলী প্রশান্ত কিশোরও। অর্থাৎ, একদিকে মুখোমুখি বিবদমান দু’পক্ষ। অন্যদিকে, দুই ‘নিরপেক্ষ’ প্রবীণ নেতা। বৈঠকের পর সৌগত দবি করেন, ‘‘সমস্ত সমস্যা মিটে গিয়েছে। শুভেন্দু জানিয়েছে, ও দল ছাড়ছে না। বিধায়ক পদও ছাড়ছে না। বাকি শুভেন্দুই পরে জানাবে।’’শুভেন্দু অবশ্য মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত কোথাও কোনও মন্তব্য করেননি। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও সাড়া মেলেনি। তবে তাঁর ঘনিষ্ঠ সূত্রের খবর, ‘রফাসূত্র’ মিলেছে যে পথে, সেটি হল— শুভেন্দু যে পাঁচটি জেলার পর্যবেক্ষক ছিলেন, সেগুলির প্রার্থী বাছাই নিয়ে অভিষেক বা প্রশান্ত তেমন ভাবে কোনও হস্তক্ষেপ করবেন না। প্রসঙ্গত, ওই বিষয়টি নিয়েই শুভেন্দুর সবচেয়ে আপত্তি ছিল। বৈঠকে শুভেন্দু জানিয়েছেন, তিনি বা তাঁরা একজনকে দেখেই (মমতা) দল করেন। বাকি কারও নির্দেশ বা হস্তক্ষপ তাঁর পক্ষে মানা কঠিন। সূত্রের খবর, বৈঠকের শুরুতেই অভিষেক শুভেন্দুর হাত জড়িয়ে বলেন, সকলে মিলে একসঙ্গে দল চালানো হোক। দলের ভালর জন্য নির্বাচনের আগে এখন সেটাই করা উচিত। তাঁরা সকলেই দলকে ভালবাসেন।
বৈঠকের পর গোটা ঘটনায় মধ্যস্থতাকারী সৌগত বলেছেন, ”আমরা সকলেই দলকে ভালবাসি। একসঙ্গে সকলে দল করতে চাই। দু’জনকেই (অভিষেক-শুভেন্দু) আমি খবর দিয়েছিলাম। দু’জনের একসঙ্গে বসার প্রয়োজন ছিল। সেটা হওয়ায় সব মিটে গিয়েছে। বৈঠক ভাল হয়েছে।” শুভেন্দুর বাবা তথা তৃণমূল সাংসদ শিশির অধিকারাও বলেছেন, ”সমস্যা ছিল। তবে সমস্যা মিটে গেলে ভাল। তাতে দলের ভাল হবে।” তৃণমূলেরই সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় লাগাতার শুভেন্দুকে আক্রমণ করছিলেন। মঙ্গলবারের বৈঠকের পর কল্যাণও বলেছেন, ”এর চেয়ে ভাল খবর আর কিছু হতে পারে না। আমি এই বৈঠককে স্বাগত জানাচ্ছি।” কল্যাণ আরও জানিয়েছেন, তিনি আর অতীতের পুনরাবৃত্তি চন না। তাঁর অতীতের মন্তব্যের ময়নাতদন্তও করতে চান না।মঙ্গলবার রাতে যে বৈঠক হতে চলেছে, তা তৃণমূলের শীর্ষনেতৃত্ব জানতেন। ঠিক ছিল, বিষয়টি যথাসম্ভব গোপনে রাখা হবে। সেটা এতটাই কঠোর ভাবে মানা হয়েছিল যে, বিদ্যাসাগর সেতুর টোল প্লাজা পর্যন্ত এসে সংবাদমাধ্যমকে অপেক্ষারত দেখে (আগের থেকেই খবর পাওয়া গিয়েছিল যে, শুভেন্দু কলকাতার দিকে রওনা দিয়েছেন) গাড়ি ঘুরিয়ে আবার কোনা এক্সপ্রেসওয়ের দিকে চলে যান। সূত্রের খবর, তিনি বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ে ধরে অন্য রাস্তা দিয়ে শহরে ঢোকেন। উত্তর কলকাতার যে বাড়িতে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল, শুভেন্দু সেখানে পৌঁছনোর পর একে একে পৌঁছন অভিষেক, প্রশান্ত কিশোর, সৌগত এবং সুদীপ।
No comments:
Post a Comment