টিএনই ডেস্ক : ডায়াবেটিস হলেই হল, মিষ্টি তো বটেই, ভাত–আলুও চলে যায় খরচের খাতায়৷ ফ্যাটে লাগে ব্রেক, হাজির হয় ‘সুপার ফুড’৷ করোলা–লাউয়ের রস, মেথি ভেজানো জল, কাঁচা হলুদ সমেত সব রকমের শাক সবজি ৷ ফ্রিজে সরবৎ, কোল্ডড্রিঙ্কের জায়গা নেয় আমলা–অ্যালোভেরা জ্যুস৷ নন–ভেজের হালও তথৈবচ, রেড মিটের প্রশ্ন নেই৷ একটা ডিম খেতে হলেও হাজার প্রশ্ন৷ তৈলাক্ত মাছে হাই ক্যালোরি, তাই সে-ও প্রায় ব্রাত্য৷ ডায়াবেটিসে আক্রান্তের কারণে খাবার নিয়ে বিপাকে পড়েন অনেকে। কী খাবেন আর কী খাবেন না তা নিয়েই তাদের চিন্তার শেষ নেই।
অনেকে ডায়াবেটিসের ডায়েট তৈরি করে নেন। তবে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন ডায়াবেটিসের নির্দিষ্ট কোনো ডায়েট নেই। স্বাভাবিক সময়ের মতোই খাবার খেতে হবে তবে এক্ষেত্রে পরিমাণ ঠিক রাখতে হবে এবং অনিয়ম করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
আমরা জানি যে, ডায়াবেটিস হলো একটি বিপাকীয় প্রক্রিয়া সংশ্লিষ্ট রোগ। যার কারণে দেহ যথেষ্ট পরিমাণে ইনসুলিন উৎপাদনে অক্ষম হয়ে পড়ে বা ইনসুলিন প্রত্যাখ্যান করে। ফলে রক্তে সুগারের মাত্রা বেড়ে যায় অস্বাভাবিক হারে।রক্তে সুগারের মাত্রা খুব বেশি বেড়ে গেলে ক্লান্তি, ঘন ঘন প্রস্রাব, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া ক্ষত শুকাতে দেরি হওয়া প্রভৃতি লক্ষণ দেখা দেয়।
ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার পর অনেকে করোলার রস, মেথি ভেজানো জল , কাঁচা হলুদসহ বিভিন্ন সুপার ফুডের ওপর ভরসা রাখেন। তবে চিকিৎসকরা ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রেও স্বাভাবিক খাবার খাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন। কিন্তু খেতে হবে পরিমাণমতো।ডায়াবেটিস হলেও বিজ্ঞানীরা সাধারণ সুষম খাবার খেতে বলেন, যা এমনিই আমাদের খাওয়ার কথা, যাতে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ফ্যাট আছে মাপমতো, যে খাবারে নিষিদ্ধ কিছুই নেই।
কিছু নিয়ম মেনে চললে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রেখে সুস্থ জীবনযাপন করা যায়। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করার অনেক উপায় আছে। ওষুধ, নিয়মিত ব্যায়ামসহ নানাভাবে এই রোগ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। তবে সব চেষ্টাই বৃথা হবে যদি আপনি খাবার নিয়ন্ত্রণ না করেন। তাই প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় এমন খাদ্য রাখতে হবে, যা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
কিছু খাবার আছে যেগুলো ডায়াবেটিস রোগকে নিয়ন্ত্রণ রাখবে যেমন -
* মেথি
মেথির উপকার সলিউব্ল ফাইবারের জন্য৷ রান্নায় দিলে বা মেথি গুড়ো খেলে ফ্যাট ও কোলেস্টেরল শোষণ কমে হৃদরোগ ও ওজন কন্ট্রোলে থাকে, কার্বোহাইড্রেট শোষণ কমে গিয়ে সুগার কন্ট্রোল ভাল হয়, যা টাইপ ২ ডায়াবেটিসের জন্য ভাল৷ মেথি ভেজানো জলে সে উপকার নেই বলাই বাহুল্য৷ সকালে মেথি ভেজানো জল খেতে পারেন।
* রসুন
রসুনের উপকারিতা অনেক। রান্নার পাশাপাশি রসুন স্বাস্থ্য ভালো রাখার ওষুধ হিসেবেও কাজ করে। রসুন কোলেস্টরল এর মাত্রা এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে।রসুনের বেশ কয়েকটি শক্তিশালী সালফারযুক্ত যৌগ রয়েছে যা এর বৈশিষ্ট্যযুক্ত তীক্ষ্ণ সুগন্ধ এবং স্বাদ সৃষ্টি করে। অ্যালিসিন, একটি গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক যৌগ, অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টিভাইরাল, অ্যান্টিফাঙ্গাল এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য হিসাবে পরিচিত। রসুনের মাথাটি কাটা, কাটা বা ঘষে ফেলা হয় এবং কিছু সময়ের জন্য মিশ্রিত করা হয় তখন পদার্থ এলিসিন প্রচুর পরিমাণে মুক্তি পায়।
* টমেটো
টমেটো ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীর জন্য উপকারী। কারণ, এতে রয়েছে খুব সামান্য পরিমাণ কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা। ডায়াবেটিসের রোগীদের শর্করার জাতীয় খাবারের বিষয়ে বেশি সতর্ক থাকতে হয়। শর্করা তাদের ব্লাড সুগারের মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দেয়। টমেটোতে শর্করা কম এবং এ কারণেই ডায়াবেটিস রোগীরা তা খেতে পারেন নির্দ্বিধায়।
No comments:
Post a Comment