লাভ জেহাদ বিতর্কের মধ্যেই খারিজ হল এফআইয়ার, নিজের ইচ্ছায় বাঁচার অধিকার আছে, বলল এলাহাবাদ হাইকোর্ট
টিএনই ডেস্কঃ লাভ জেহাদ নিয়ে প্রবল বিতর্ক চলছে বহুদিন ধরেই। এরই মধ্যে পেশ করা হলো নতুন এক বক্তব্য। হাইকোর্ট পেশ করছেন নানারকমের মন্তব্য। এই মন্তব্য নিয়ে কি নতুন এক বিতর্কের সৃষ্টি হবে নাকি সবাই এটি মেনে নেবে।
গত সেপ্টেম্বরে এটাওয়ার কোতোয়ালি দেহাত পুলিশ সলমন ওরফে করন নামে এক মুসলিম যুবকের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৬৬ ধারায় মামলা রুজু করে। একজন মহিলাকে প্রলোভন দেখিয়ে বা অপহরণ করে বিয়ে করতে বাধ্য করার অভিযোগ সংক্রান্ত ধারায় মামলাটি হয়।
২৭শে ডিসেম্বরের এটাওয়ার মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট নির্দেশ দেন। শিক্ষাকে শিশু কল্যাণ সমিতির হাতে তুলে দিতে হবে। সমিতির বিরুদ্ধে তাকে তার বাবা-মার কাছে পাঠিয়ে দেয়। কিন্তু হাইকোর্ট বলেছে ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ ও শিশু কল্যাণ সমিতির আচরন যথাযথ পালন করা হয়নি। শিখাকে হাইকোর্টের নির্দেশে হাজির করা হয়। আদালত বলে, শিখার হাইস্কুল সার্টিফিকেট অনুসারে জন্মের তারিখ ১৯৯৯ সালের ৮ই অক্টোবর, তাই সে এখন প্রাপ্তবয়স্ক।
এই প্রবল বিতর্কের বিরুদ্ধে এলাহাবাদ হাইকোর্ট হিন্দু মেয়েকে বিয়ে করা এক মুসলিম যুবকের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর খারিজ করেন। ঘটনাটি ঘটে উত্তরপ্রদেশের এটাওয়া জেলায়। মেয়েটির নিজের স্বার্থে জীবন কাটানোর অধিকার আছে। এই ভিন্ন ধর্মের বিয়ের বৈধতা বহাল রেখে বিচারপতি পঙ্কজ নকভি ও বিচারপতি বিবেক অগ্রবালকে নিয়ে গঠিত বেঞ্চ বলেছে, মেয়েটির হাই স্কুল সার্টিফিকেট দিয়ে বোঝাই যাচ্ছে সে এখন প্রাপ্তবয়স্ক।
শিখা নামের মেয়েটির নিজের খুশিমতো জীবন বেছে নেওয়ার অধিকার আছে তিনি স্বামীর সঙ্গে থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন সে মতে চলার অধিকার আছে তার গত ১৮ই ডিসেম্বর এক হেবিয়াস কর্পাস পিটিশনের উপরে সিদ্ধান্ত জানিয়েছে বেঞ্চ।
উত্তরপ্রদেশে জোর করে ধর্ম বদলে বিয়ের অভিযোগ সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে লাভ জেহাদ রোধে যে অর্ডিন্যান্স চালু হয়েছে তার মধ্যেই হাইকোর্টের এই রকম নির্দেশ। উত্তরপ্রদেশ সরকার অর্ডিনাস জারি করে জানিয়েছে যে শুধুমাত্র বিয়ের জন্য ধর্ম বদল চলবেনা বিয়ের আগে ধর্ম বদলাতে হলে আগাম ম্যাজিস্ট্রেটকে জানাতে হবে। যদিও এই মামলাটি রুজু হয়েছে নতুন আইন কার্যকর হওয়ার আগেই।

No comments:
Post a Comment