টপাটপ অ্যান্টিবায়োটিক খাবেন না, জেনে নিন কীভাবে খাবেন - The News Express

Breaking

The News Express

A Bengali News and Entertainment Web-Channel (24x7) The power of information

Youtube


Tuesday, May 5, 2020

টপাটপ অ্যান্টিবায়োটিক খাবেন না, জেনে নিন কীভাবে খাবেন

মনতোষ চৌধুরি:-অ্যান্টিবায়োটিক অর্থাৎ একটি ঔষধ বা ড্রাগ। যাকে দুটি খন্ডে বিভক্ত করলে আমরা পাই অ্যান্টি(বিরোধী) এবং বায়োটিক(ব্যাক্টেরিয়া)। সুতরাং, বাংলা অর্থে এই দাঁড়ায় যে, ব্যাক্টেরিয়া বিরোধী।
আমরা কমবেশি প্রায় সকলেই জানি যে শরীরে ব্যাক্টেরিয়া ঘটিত কোনো রোগ দেখা গেলে সাধারণত, অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার প্রয়োজন ঘটে। অ্যান্টিবায়োটিক সম্পর্কে কিছু বলতে যাওয়ার আগে যদি আমরা প্রায় এক দশক পূর্বে ফিরে যাই, তাহলে দেখতে পাব যে বর্তমানের তুলনায় তখন ব্যাক্টেরিয়া ঘটিত রোগ অনেক কম ঘটত। যার ফলে তখন অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার বর্তমানের তুলনায় যথেষ্ট কম ঘটত। অ্যান্টিবায়োটিক প্রসঙ্গে আরও বলতে গেলে এই দাঁড়ায় যে, শরীরে অ্যান্টিবায়োটিক আমাদের দেহের মাইক্রোঅর্গানিজমগুলোকে মেরে জীবানুর হাত থেকে আমাদের আরোগ্য লাভ করতে সাহায্য করে।
বর্তমানে বিশ্বে মানবসভ্যতাকে ধব্বংস করার জন্য মাথা চাঁড়া দিয়ে উঠছে আন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স। বর্তমান বিজ্ঞানীদের এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, বর্তমানে ভারতবর্ষ অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে শীর্ষে রয়েছে । এবং তার সাথে জানা গেছে যে, প্রতিবছর ৭লক্ষ মানুষের মৃত্যু ঘটছে এই অ্যান্টিবায়োটিকের জন্য। আর দিন-দিন এইভাবে চলতে থাকলে ২০৫০ সালে ১কোটি মানুষ মারা যাবে এই মারন ঔষধের জন্য।
এবার সাধারনত প্রশ্ন আসবে যে কেন এই যথেস্ট দাম থাকা সত্বেও মানুষ এত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করছে?
উত্তরটা হবে –
১) মানুষ আর রোগের পিছনে বেশিদিন ব্যায় করতে চাইছে না। যত দ্রুত সম্ভব রোগ থেকে আরোগ্য পেতে চাইছে।
২) ঔষধের দোকানগুলি আর এখন প্রেসক্রিপশন না দেখে জনসাধারনকে অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে দিচ্ছে। এবং দোকানগুলিতে সেই অর্থে ফার্মাসিস্ট না থাকার জন্য, ক্রেতারা অ্যান্টিবায়োটিক সম্পর্কে কোনো ধারনা পাচ্ছেন না।
দোকানগুলো যদি যথাযত প্রেশক্রিপশন দেখে ঔষধ দিত, তাহলে নিশ্চিত, এর যতেচ্ছ ব্যবহার কমে যেত। বর্তমানে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার এত বেড়ে গেছে যে, উদাহরন স্বরূপ বলতে গেলে মানুষের সামান্য জ্বর হলেই ডাক্তার দেখানোর কোনো বালাই নেই। সোজা ঔষধের দোকানে গিয়ে অ্যামোক্সসিলিন অ্যান্টিবায়োটিক কিনে নিচ্ছে এবং সম্পূর্ন ডোজ শেষ হবার আগেই খাওয়া বন্ধ করে দিচ্ছেন। শুধু নিজেই খাচ্ছে না সাথে বাদ পড়ছে না তাদের পরিবারের ছোটরা।
১৯২৮খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ বিজ্ঞানী স্যার আলেকজান্ডার ফ্লেমিংয়ের হাত ধরে প্রথম অ্যান্টিবায়োটিকের প্রকাশ ঘটে। তিনি সর্বপ্রথম লক্ষ্য করেন যে, তাঁর পরীক্ষাকৃত কালচার মিডিয়ার ব্যাক্টেরিয়া পাত্রের একরকম ছত্রাক জন্ম নিয়েছে। আর এই নিসৃত পদার্থ থেকে আশেপাশের ব্যাক্টেরিয়াগুলি মারা পড়েছে। তিনি তখন এই নতুন পদার্থটির নাম দেন অ্যান্টিবায়োটিক । যা পরবর্তীকালে উক্ত নি:সৃত পরিশোধন করে জীবানুঘটিত নানান রোগ সারাতে ব্যবহার করেন। এই অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ প্রথম ব্যবহার করা হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন সময়ে। বর্তমানে পশুপাখি ও মানুষের জন্য প্রায় ১৬০টির বেশি অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
এবার আসা যাক কিভাবে কাজ করে অ্যান্টিবায়োটিক ?
একটি উদাহরনস্বরুপ যদি আমরা পেনিসিলিন ধরি তাহলে দেখব যে, –
১) পেনিসিলিন অ্যান্টিবায়োটিক আমাদের দেহে প্রবেশ করার পর সরাসরি ব্যাক্টেরিয়ার কোষগ্রাত্রে আঘাত করে। যার ফলে অনান্য জীবানুগুলি কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।
২) অ্যান্টিবায়োটিকের মধ্যে থাকে ব্যাক্টেরিও স্ট্যাটিক ক্ষমতা । যা ওই সমস্ত জীবানুর(ব্যাক্টেরিয়া) সংখ্যা বৃদ্ধিতে ব্যাঘাত ঘটায়। প্রতিটি অ্যান্টিবায়োটিকের এক বা একাধিক কার্যক্ষমতা থাকে। যা অ্যান্টিবায়োটিকের অন্যতম একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য ।
কিছু অতিপরিচিত অ্যান্টিবায়োটিক হল- অ্যাজিথ্রোমাইসিন, টেট্রাসাইলিন, অ্যামোক্সসিলিন, ডক্সসিলিন ইত্যাদি। কথায় রয়েছে ড্রাগের নেশা সর্বনাশা এবং অ্যান্টিবায়োটিক এক প্রকার ড্রাগ। যার অনির্দিষ্ট ব্যবহার প্রাণীকূলের জন্য হানিকারক।
অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার সময় যে বিষয়গুলি অত্যন্ত মাথায় রাখা দরকার তা হল এই যে-
‍১)ডাক্তার বা ফার্মাসিস্ট এর মতামত ছাড়া কখনও কোনো ড্রাগ বা ঔষধ সেবন করা উচিত নয়। কারণ, একমাত্র উক্তব্যক্তিরাই একমাত্র পারে আপনাকে যে কোনো রোগ এবং তার যথাযত ঔষধ সম্পর্কে সঠিক সম্পূর্ন ধারনা আপনাকে দিতে।
২)অনেকেরই ধারনা যে ভাইরাস ঘটিত যে কোনো রোগের ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা যেতে পারে, এই ধারনা সম্পূর্ন ভুল। তার কারণ, অ্যান্টিবায়োটিক শুধু মাত্র ব্যাক্টেরিয়া ঘটিত রোগের নিরাময়ে ব্যবহৃত হয়।
৩) অনেকেরই ধারনা দিনে সাধারণত ২-৩বার অ্যান্টিবায়োটিক খেতে হবে। এ ধারনাটিও ভুল কারণ, নানান রোগের ক্ষেত্রে নানান ডোজে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহৃত হয়ে থাকে। আর অ্যান্টিবায়োটিক খেতে খেতে রোগ একটু ভাল হতেই মাঝপথে খাওয়া বন্ধ করে দিলে হবে না তাহলে আবার রোগ মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে।
৪) বেশিরভাগ অ্যান্টিবায়োটিক খালি পেটে খাওয়া হয় না সর্বদা ভর্তি পেটে অ্যান্টিবায়োটিক খেতে হয়। এই ওষুধ খাওয়ার সময় কোনো রকম নেশাদ্রব্য সেবন করলে অ্যান্টিবায়োটিক সম্পূর্ণরূপে কাজ করতে পারে না। অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার সময় প্রচুর জল খাওয়া ভাল যার ফলে আমাদের দেহ থেকে সহজেই রেচন পদার্থ হিসেবে টক্সিন বেরিয়ে যায় এবং দ্রুত আরোগ্যলাভ করা সম্ভব।
৫) বেশিরভাগ অ্যান্টিবায়োটিক এর যথাযত সাইড এফেক্ট রয়েছে । এটিকে সম্পূর্নরুপে ভালভাবে যত্নসহকারে গ্রহণ না করলে আপনার ডায়রিয়া,শরীর দুর্বল,ক্ষুদামন্দা, বমি-বমি ভাব,ত্বকের নানান রকম রোগ, পেট এবং মাথার যন্ত্রনা এমনকি শ্বাসকষ্ট অবধি হতে পারে।
সর্বোপরি যতটা পারবেন অ্যান্টিবায়োটিক-এর ব্যবহার নিজে বন্ধ করুন এবং অপরকেও ব্যবহার করতে মানা করুন। পারলে অ্যান্টিবায়োটিক -এর পরিবর্তে অন্য একই কোনও সাধারণ ঔষধ ব্যবহার করুন এবং যদি রোগ না সারে সেক্ষেত্রে তবেই ডাক্তারবাবুর পরামর্শ নিয়ে এবং অ্যান্টিবায়োটিকটির সম্পূর্ন খাওয়ার পদ্ধতি জেনে নিন অর্থাৎ ড্রাগটি কখন খাবেন? কিভাবে খাবেন? কতদিন খাবেন? ঔষধটি খাবার সময় কি কি খাবার আপনাকে বর্জন করতে হবে? সাইড এফেক্ট কি? প্রভৃতি জেনে তবেই গ্রহন করুন এই মারন ঔষধটি।

No comments:

Post a Comment