চলুন জানি অয়নদীপ চক্রবর্তীর কথা
কৌশিক চক্রবর্তী; বাঙালির প্রাণের উৎসব হলো রবীন্দ্রজয়ন্তী। প্রত্যেক বছর ২৫শে বৈশাখ বাঙালি মেতে ওঠে তার চিরকালের আরাধ্য মানুষরূপী দেবতার জন্মদিন পালনে। এবারেও ২৫শে বৈশাখ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথের জন্মদিনে আমরা সবাই নিজেদের মতো করে উদযাপন করেছি। কেউ নাচ ,কেউ গান কিংবা আবৃত্তি রবীন্দ্রনাথের শ্রুতি নাটক ইত্যাদি দিয়ে সবাই দিনটিকে আপন করে নিয়েছি।
তবে ক্যারিকেচার আর্টিস্ট অয়নদীপ চক্রবর্তী কিন্তু শুধুমাত্র আমাদের মতো নিজের ঘরে রবীন্দ্র জয়ন্তী পালনে থেমে থাকেননি। তিনি রবি ঠাকুরকে উৎসর্গ করে তার উপার্জন করা অর্থ দিয়ে চাল, ডাল, আলু ইত্যাদি সামগ্রী কাঞ্চন মেডিকেয়ার মেডিকেল ম্যানেজমেন্ট এর কর্ণধার ডাক্তার অশোক রায়ের হাতে তুলে দেন।
তিনি এর আগেও ১২ দিনে ৭০টিরও বেশি ক্যারিকেচার একে উপার্জন করা প্রায় কুড়ি হাজার টাকা বিভিন্ন রিলিফ ফান্ডে দান করেছেন। তার এই উদ্যোগের কথা তিনি প্রথম একটি ফেসবুক পোস্টে জানান গত ২২এপ্রিল । তিনি বলেন ইচ্ছুক ব্যক্তিদের তিনি ক্যারিকেচার করে দিতে চান কিছু অর্থের বিনিময়ে। সেই কথা মতো তিনি গত ১২ দিনে ৭০ টিরও বেশি ক্যারিকেচার আঁকেন। উপার্জিত টাকা বিভিন্ন ছোট-বড় ফান্ডে দান করে তিনি এই পরিস্থিতিতে বহু মানুষের কাছে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন।
তিনি গতকাল ওই লকডাউন এর মধ্যে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে রবীন্দ্র জয়ন্তী উদযাপন করতেই কাঞ্চন মেডিকেল মেডিকেল ম্যানেজমেন্ট সার্ভিস এর হাতে তুলে দেন বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী। তার মতে রবীন্দ্রনাথের জন্মদিন এ এই উদ্যোগ তার পক্ষ থেকে তার প্রাণের ঠাকুরকে দেওয়া শ্রেষ্ঠ উপহার হয়ে থেকে যাবে।
।তিনি এই প্রসঙ্গে বুলেটিনস ইন্ডিয়াকে জানান শুরুতে এই উদ্যোগে অনেক মানুষই তাকে সমর্থন জানান নি বরং এই মহামারীর পরিস্থিতিতে তার শিল্পের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলেছিলেন । তবু তিনি ওয়ান ম্যান আর্মি হয়ে এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে উদ্যোগী হয়েছিলেন ।ফলে নিজের সিদ্ধান্তে তিনি শুরু থেকেই অটল ছিলেন। অনেকে অবশ্য তার উপার্জিত টাকার সঠিক ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তবুও তিনি বলেন এই সমস্ত খারাপের মধ্যেও ভালোটুকু খুঁজে নিয়ে তিনি কাজ করে চলেছেন এবং আগামীতেও করবেন।
এছাড়াও তিনি তার ছবি বিক্রি করে যে টাকা পান তা আমফান এবং করোনা মোকাবিলায় ত্রানে ও সরকারি ফান্ড এ দান করেন। এছাড়াও এই ভয়ঙ্কর দুর্যোগ যাদের সরাসরিভাবে গ্রাস করেছে সেই সমস্ত মানুষদের তিনি সাহায্য করেন ।

No comments:
Post a Comment