খুনের সংখ্যা হাফ সেঞ্চুরি, তারপর আর কোন হিসেব রাখেনি ,জানালেন ধৃত ডাক্তার বাবু
নিজস্ব প্রতিবেদন : খুনের সংখ্যা হাফ সেঞ্চুরি হয়ে গেছে, তারপর থেকে আর কোন হিসেব রাখেননি দিল্লির এক আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক। তার নাম দেবেন্দর শর্মা, বয়স ৬২ বছর। দিল্লি পুলিশের কাছে তিনি নিজের মুখে স্বীকার করেছেন তার ৫০টি খুনের কথা, যদিও আরও বলেছেন যে ৫০ টার পর আর হিসেব রাখেননি তিনি।
দেবেন্দর বাবুর বাড়ি উত্তরপ্রদেশের আলিগড়ে। সেখানে তিনি আয়ুর্বেদিক মেডিসিন এন্ড সার্জারি নিয়ে পাস করেছিলেন। শুধু খুন না তাছাড়া অপহরণ , ভুয়ো গ্যাসের এজেন্সি চালানো, কিডনি পাচার চক্র চালানোরও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এই সমস্ত কাজের জন্য তিনি ধরাও পড়েছিলেন এবং জেলে ছিলেন। মাঝে প্যারোলে মুক্তি পেয়ে গা ঢাকা দিতে তিনি দিল্লি চলে আসেন। দিল্লিতে এসেও তিনি ফের ধরা পড়েছেন দিল্লি পুলিশের কাছে।
১৯৯২ সালে তিনি একটি গ্যাসের ডিলারশিপ নেওয়ার চেষ্টা করেন ,কিন্তু সেখানে তাকে এক ব্যক্তি ঠকায়। তারপর থেকেই তিনি বিভিন্ন খারাপ কাজের সাথে যুক্ত হতে থাকেন। ১৯৯৫ সালে আলিগড়ে তিনি একটি ভুয়ো গ্যাসের এজেন্সি খোলেন, এছাড়াও ২০০১ সালে আমরোহায় আরও একটি ভুয়ো গ্যাসের এজেন্সি খোলেন। তারপর ২০০৩ সালে তিনি ট্যাক্সি ছিনতাই ও শুরু করেন কয়েকজন দুষ্কৃতীকে সঙ্গে নিয়ে। ট্যাক্সি ড্রাইভার গুলি কে মেরে ফেলে ছিনতাই করা ট্যাক্সি বেঁচে সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ লাভ করতেন। শুধু ট্যাক্সি ছিনতাই না অনেকবার এলপিজি ভর্তি ট্রাক ও তিনি লুট করেছেন। ট্রাকের ড্রাইভার গুলিও তার হাতেই খুন হয়েছে।২০০৩ সালে তিনি বিভিন্ন জায়গায় কিডনি পাচার চক্রের সাথে জড়িয়ে পড়েন। প্রায় ১২৫ জনের বেআইনি কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট করেছেন তিনি, এবং সেখান থেকেও কয়েক লক্ষ টাকা পেয়েছেন ।
এত অপরাধের জন্য তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয় । ১৬ বছর জেলে কাটিয়ে তিনি ২০ দিনের প্যারোলে মুক্তি পান জয়পুর সেন্ট্রাল জেল থেকে। জেল থেকে ছাড়া পাবার পর গা ঢাকা দিতে তিনি দিল্লিতে চলে আসেন এবং সেখানে এক বিধবা মহিলাকে বিয়ে করেন তিনি। দিল্লিতে এসে সম্পত্তি কেনা বেচার ব্যবসা শুরু করেছিলেন তিনি। অবশেষে গত মঙ্গলবার দিল্লি পুলিশের হাতে ফের ধরা পড়েন। টানা ২৪ ঘন্টা তাকে জেরা করেন পুলিশ। যদিও জেরা করার সময় তিনি পুলিশকে তার সব দোষের কথা বলেছেন।

No comments:
Post a Comment