সুজানা পারভিন:- একই সাথে জীবন গড়ে তুলেছেন এই দম্পতি। এতটা পথ একসাথে চলার মূলমন্ত্র খোলসা করলেন দুজনে। ১১০ বছর বয়সী স্বামী জুলিও সিজার মোরা তাপিয়া, এবং ১০৪ বছর বয়সী স্ত্রী ওয়ালড্রামিনা ম্যাকলোভিয়া কুইনটেরস । দুই জনের বয়স যোগ করলে দাড়ায় ২১৪ বছর। দিনের হিসেবে আরও ৩৫৮ দিন বেশি। বহুদিনের বেঁচে থাকা রেকর্ড গড়ে উঠলো গিনিস বুকে। বিশ্বের প্রবীণতম দম্পতির মুকুট এখন তাদের হাতে। তাদের দাম্পত্য এর জীবন ৭৯ বছর। জুলিও সিজার ওয়ালড্রামিনা আলাপ ১৯৩৪ সালে।
পরিচয়, স্কুলে পড়াতেন ওয়ালড্রামিনা স্কুল ছুটির সময় একবার বোনের বাড়ি বেড়াতে যান । সেখানেই জুলিও সিজারের সাথে দেখা হয় । তারপর আলাপ থেকে এগিয়ে যায় সম্পর্ক।ওয়ালড্রামিনার রূপে মুগ্ধ হন জুলিও। অন্যদিকে জুলিও ব্যক্তিত্ত্ব প্রাণ জুড়িয়ে দেয় ওয়ালড্রামিনার। এইভাবে ঘনিষ্ঠ হয় তাদের সম্পর্ক। ওয়ালড্রামিনা জানিয়েছেন, ওর(জুলিও) মনটা ছিল তারুণ্যে ভরপুর। মাঝের মধ্যে কবিতা শোনাতেন তিনি। সাহিত্যের প্রতি ভালোবাসা, পড়াশোনার প্রতি টান এইসব তাদের বন্ধুত্ত্বের উপকরণ হয়ে ওঠে। সাহিত্যিক রূপ সাগরের মাধ্যমে ভেসে ওঠে তাদের প্রাণ।
সময়ের হাত ধরে সেই বন্ধুত্ব গড়ায় প্রেমে। একে অপরকে ছেড়ে থাকা সম্ভব ছিলোনা তাদের পক্ষে। কিন্তু পরিবারের সম্মতি ছিলো না। তবে কথায় আছে না, " মিঞা বিবি রাজি তো কিয়া কারেগা কাজি " ! ফলে জীবনসঙ্গী হিসেবে পথ চলার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন জুলিও ও ওয়ালড্রামিনা। ১৯৪১ সালে লুকিয়ে বিয়ে করেন।
তাদের দীর্ঘদিন চলার পথ সবটাই মধুর ছিলো না। আর পাঁচ জনের মতো তাদের জীবনে ঝড়ঝাপটা এসেছে। চড়াই-উতরায় পেরিয়েছেন একসঙ্গে, বিশ্বাস রেখেছেন একটাই মন্ত্রে , তা হলো অটুট ভালোবাসা। কোনো দিন থমকে না দাড়ানোর ফল ই তাদের এতো দূর একসাথে এগিয়ে নিয়ে এসেছে।। এটাই জুলিও সিজার ও ওয়ালড্রামিনার মূল শক্তি।
No comments:
Post a Comment