সৃজিতা ব্যানার্জী:রাজ্যের পরিবেশ কর্মীদের আশঙ্কা মহামারীকে হাতিয়ার করেই বেড়ে উঠছে বেআইনি শব্দবাজির ব্যবসা। কোরোনা পরিস্থিতিতে প্রায় সব কারখানা বন্ধ। লকডাউন সহ নানা কাজে ব্যস্ত এখন পুলিশ।এই মুহূতে পুলিশের নজরদারিতে শব্দবাজি কারখানাগুলো নেই বলেই চলে।তাই পুলিশ আশঙ্কা করছে এই জিনিসটারই সুযোগ নিচ্ছে বেআইনি শব্দবাজির কারখানাগুলো।
কালি পূজোর ঠিক এক সপ্তাহের আগে থেকে শহরের প্রায় পাঁচটি জায়গায় বাজির বাজার বসে।কিন্তু এই অতিমহামারীর কারণে বাজির বাজার বসবে না বলেই অনুমান করছেন প্রশাসনিক কর্তা ব্যক্তিরা।পরিবেশকর্মীর একাংশ মনে করছেন শহরতলীর যে সব জায়গায় বেআইনি শব্দবাজি তৈরি হয় সেখানে নজরদারি চালান জরুরি।
৫মাস লকডাউনের কারণে প্রায় বেশিরভাগ কারখানাই বন্ধ হয়ে গেছে।কলকাতার বিভিন্ন বাজি বাজার কমিটির ১৫জন সদস্য ইতিমধ্যে করোনায় আক্রান্ত ও ৫জন করোনায় মারাও গেছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত বাজি বাজারের ডিসি সুখেন্দু হীরা বলেন "কোরোনা সংক্রমণ যে হারে বেড়ে চলেছে তাতে এ বার বাজি বাজার বসবে না বলেই ধরে নেওয়া যায়"। BFDA সাধারণ সম্পাদক শান্তনু দত্ত বললেন,"তামিলনাড়ুর শিবকাশি থেকে আতসবজি আসে ৭৫% ,২৫%আসে দক্ষিণ ২৪ পরগনার নুঙ্গি,চম্পাহাটি, বজবজ ও মেদিনীপুর থেকে।কিন্তু কোরোনার কারণে গত ৫মাস ধরে কোনো মাল ঢোকে নি।তাই এই বছর বাজারের কথা ভাবতেই পারছি না"। পরিবেশ কর্মীদের একাংশ মত প্রশাসন যদি মনে করে বাজির বড়ো বড়ো কারখানাগুলো বন্ধ বলে বেআইনি বাজি কারবারিরা হাত গুটিয়ে বসে আছে তাহলে তারা ভুল করছেন।
সূত্রের খবর অনুযায়ী অগস্টেই পুলিশ ,দমকল,কলকাতা পুরসভা, সিইএসসির সাথে বাজি কমিটির সাথে মিটিং আছে।তবে সুখেন্দু হীরা ও দমকলের ডিজি জগমোহন জানিয়েছেন বাজি বাজারের অনুমতি চেয়ে ৫টি কমিটি এখন আবেদন পত্র জমা দেয়নি। পশ্চিমবঙ্গ বাজি শিল্প উন্নয়ন সমিতির সাধারণ সম্পাদক শুভঙ্কর মান্নার কোথায় "প্রশাসনের কাছে বিনীত আবেদন বাজি বাজারের বিকল্প কিছু ভাবুন।এই সময়ে বাজির বাজারের কথা ভাবই যায় না।কিন্তু এর বিকল্প কিছু ভাবুন কারণ এই শিল্পের সঙ্গে কমবেশি ৭লক্ষ মানুষ জড়িত। পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্ত বলেন,"করোনাকে হাতিয়ার করেই লুকিয়ে বেআইনি বাজি তৈরির কারবার চলছে।বাজির বাজার বন্ধ থাকলেও ওই সমস্ত শব্দ বাজি শহরের বিভিন্ন দোকানে সময়মতো পৌঁছে যাবে।প্রশাসনকে সেই দিকে কড়া নজর দিতে হবে"।
No comments:
Post a Comment