পুষ্পিতা সিনহা; কথায় আছে ইচ্ছাশক্তি থাকলে অসম্ভবকে সম্ভব করা। এবার সেই কথায় প্রমাণ করল কলকাতার রৌনক ও নেহা। ইউপিএসসি -র চূড়ান্ত তালিকার ফলপ্রকাশিত হয়েছে। ১৩ স্থান অধিকার করেছে রৌনক আগরওয়াল ও ২০ স্থান অধিকার করেছে নেহা বন্দোপাধ্যায়। রৌনক ও নেহা চায় পশ্চিমবঙ্গে ক্যাডারের আমলা হিসাবে কাজ করতে।
আইআইটি খরগপুরের ইঞ্জিনিয়ার নেহা বন্দোপাধ্যায় প্রথম বারেই পরিক্ষা দিয়ে চমক দেখাল। চাকরিতে যুক্ত থাকা অবস্থায় পরীক্ষায় বসেছিলেন। তাঁর চাকরিতে যোগ দেওয়া এক বছর আট মাস হয়েছে।
নেহা যাদবপুর সেন্ট্রাল পার্কের বাসিন্দা। কারমেল স্কুলে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছেন। তারপর একাদশ- দ্বাদশ সাউথ পয়েন্ট স্কুল। পরবর্তীকালে খরগপুর আইআইটিতে ফাইনাল ইয়ারে তাঁর মনে হয়, তিনি সিভিল সার্ভিসের পরীক্ষায় বসবেন। প্রিয় বিষয় ছিল ইতিহাস, ভূগোল। তাঁর মধ্যে জানার কৌতুহল ছিল প্রবল এবং তিনি বিভিন্ন বিষয়ে পড়তে ভালোবাসতেন। এই আগ্রহ তাকে লক্ষ্যভেদ করার পথে সাহায্য করেছিল।
নেহার মধ্যে রয়েছে আরও গুণ। সেগুলি জানা গেছে তাঁর ডায়রি থেকে। মনের সব কথা ফুটিয়ে তুলতো এই ডায়রিতে। খরগপুর আইআইটিতে থাকাকালীন কলেজের মিউজিক ব্যান্ডে গান গাইতেন। তিনি জানিয়েছেন, বিদেশে যেতে তিনি চাননা। দেশের জন্য কাজ করতে চান।
সিভিল সার্ভিসপরীক্ষার আগামী দিনে যাঁরা বসবেন, তাঁদের উদ্দেশ্যে তিনি কী বলবেন? উত্তরে নেহা জানায় ইচ্ছাশক্তি থাকলেই সব সম্ভব। আমি পেরেছি, আরও অনেকে পারবে।
অন্যদিকে বাণিজ্য বিভাগের ছাত্র রৌনক আগরওয়াল আগে দুবার প্রিলিমিনারির বাধা পার করতে পারেননি। এবার একবারে ১৩ নম্বরে। রৌনক কবিতা লিখতে ভালোবাসতেন। কলকাতার শ্রী দৌলতরাম নোপানি হাইস্কুলে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছেন। তারপর সেন্ট লরেন্স হাই স্কুলে। সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে স্নাতক স্তরে পড়াশোনা করেন। চার্টাড অ্যাকাউন্টে পড়াশোনা সম্পূর্ণ করেন ২০১৬ সালে। বেসরকারি ব্যাঙ্কের চাকরি পান কিন্তু করেননি। মনস্থির করেন ইউপিএসসি পরীক্ষায় বসবে।
তিনি বলেন, পরিক্ষায় সাফল্য পেতে গেলে পরিশ্রমের সঙ্গে চায় স্মার্ট ওয়ার্ক। স্মার্ট ওয়ার্ক কী? তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেন, প্রশ্ন কী ধরনের হচ্ছে? কী বদল আসছে সেগুলি বোঝা দরকার। আর বিশেষ করে দুর্বলতাগুলিকে কাটিয়ে তুলতে হবে। তাঁর কথার মধ্যে বারবার প্রকাশ পেয়েছে পরিবারের কথা।
No comments:
Post a Comment