পুষ্পিতা সিনহা; রাজার হয়না কোন ধর্ম হয়না কোন জাতী। ধর্ম হল দুষ্টের দমন করার জন্য আর শিষ্টের পালন করার জন্য। তার পরিচয় পাওয়া গেল বারাসাতে। অযোধ্যার রামমন্দির শিলান্যাসের দিন হিন্দু মুসলিম একসঙ্গে শ্রীরাম চন্দ্রের পূজোর আয়োজন করলেন। এই পূজোর মূল উদ্যোক্তা ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা রাজীব আহমেদ খান। পূজোর আয়োজন করা হয় উওর ২৪ পরগনার বারাসতের নতুনপল্লিতে।
তিনি শুধুমাত্র সেই অঞ্চলের বাসিন্দা তা নয়, তাঁর রয়েছে আরো একটি পরিচয়। উওর ২৪ পরগনা জেলার বিজেপি সংখ্যালঘু সেলের জেলা সভাপতি তিনি। সেখানে অন্যান্য বিজেপি কর্মী উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ বাবুল মোল্লা ও রহিম মন্ডল। তাঁরা শ্রী রামের পূজো করেন। এই দৃশ্য সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার অন্যতম নজির।
দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার অনেকাংশে শ্রী রামকে হিন্দু ধর্মের প্রতিক নয় বরং সাংস্কৃতিক প্রতীক হিসেবে দেখানো হয়। ইন্দোনেশিয়া , যেখানে ৮৬ শতাংশের বেশি মানুষ মুসলিম সেখানে রামায়ণের নাটক ও গান করা হয়। এই দেশের অন্যতম জাতীয় প্রতীক হল, রামায়ণে বর্ণিত গরুড়। থাইল্যান্ডের প্রাচীন রাজধানীর নাম ছিল অযোধ্যা। দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে রামায়নের চর্চা হয়, যা তুলনামূলক ভাবে ভারতের থেকে অনেক বেশি।
উওর ২৪ পরগনা জেলাতেও শ্রীরামকে ' রাজা ' হিসেবে উপস্থাপনা করা হয়। এর সাহায্যে সমাজের কাছে একটি বার্তা পৌচাচ্ছে। রাম জন্মভূমিতে রামের মন্দির শিল্যান্যাস করা নিয়ে ধর্মীয় দন্দ্ব দেখা দেয়। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে বারাসাতের নতুনপল্লিতে অন্য চিত্র দেখা গেল।
No comments:
Post a Comment