সুজানা পারভিন:- করোনার দাপট শেষ হওয়ার পর শুরু হলো আর এক ভাইরাসের দাপট। জানা গিয়েছে, চিনের আনহুই ও দেজিয়াং প্রদেশে ওই ভাইরাসের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। ওই ভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে আক্রান্ত হয়েছে ৬০ জনের বেশি এবং মৃত্যু ঘটে ৭ জনের। বেজিংয়ের স্বাস্থ্য কর্তা জানায়, এই নতুন ভাইরাসটি এক ধরনের রক্ত চোষা পোকার কামড়ের ফলে মানুষের শরীরে প্রবেশ করছে। এই রক্ত চোষা পোকা সাধারণত গাছে, ঘাসে বা পাতায় থাকে, অনেকটা এঁটুলির মতো আকার। বাড়িতে পোষা কুকুর ও বিড়ালের শরীরেও দেখা যায় এই পোকা। যদিও এমনিতে এই পোকা কামড়ালে কোনও কিছু হয় না। তবে যদি এদের শরীরে ভাইরাস থাকে তাহলে, মানুষ সংক্রমিত হবে। ভাইরাসটি প্রথমে দেখা দেয় এক মহিলার শরীরে। ১মাস চিকিৎসা করার পর তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন।
সূত্রে জানা যায়, করোনা মারণ ভাইরাসের পরেই এই ভাইরাসটি হানা দেয় কয়েক জনের শরীরে। এই বছরের গোড়ার দিকেই জিয়াংসু প্রদেশের রাজধানী নানজিং শহরের এক মহিলার শরীরে ভাইরাসটির সন্ধান পান চিকিৎসকেরা। প্রথমে করোনার মতো উপসর্গ দেখা দেয় ; জ্বর ও কাশি্। পরে রক্তকণিকার সংখ্যাও ক্রমশ কমতে থাকে। এই ভাইরাসে্ করোনা উপসর্গ থাকার সাথে সাথেই লিউকোসাইটের সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে। যাকে এক সঙ্গে বলা যায় এস এফ টি এস , অর্থাৎ সিভিয়ার ফিভার উইথ থ্রম্বোসাটোপেনিয়া সিনড্রোমসিনড্রোম।
এই ৬মাসে জিয়াংসু প্রদেশে ৩৭ জন ও আনহুই প্রদেশে ২৩ জন এই মারণ রোগে আক্রান্ত হয়েছে।
করোনা ভাইরাসের পর সুস্থির নিশ্বাস ফেলতে না ফেলতে ধরা পরে আর এক ভাইরাসের। ফলে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে বেজিং।
যারা মৃত্যুর সম্মুখীন হয়েছে তারা প্রত্যেকেই আনহুই ও দেজিয়াং প্রদেশের বাসিন্দা। চিন ছাড়াও জাপান, কোরিয়া, ভিয়েতনাম এবং তাইওয়ানেও এই ভাইরাসের খোঁজ মিলেছে।
তবে করোনা থেকে শিক্ষা পেয়ে চিন আর গা-ছাড়া করবেনা পরিস্থিতির সাথে। পরিক্ষা-নিরিক্ষা করে দেখা যাচ্ছে যে করোনা ভাইরাসের মতোই মারণ রোগ সৃষ্টি করছে কী না। এই ভাইরাসের নতুন কোনো রূপ দেখা দেয়নি। এই ভাইরাস আগেও একবার দেখা দিয়েছিল ২০১১ সালে।
তবে চিকিৎসকরা সতর্কবার্তা জানিয়েছেন, পোকার দংশনই হলো প্রধান সংক্রমণ রুট। এই ভাইরাস নিয়ে বেশি আতঙ্কিত হওয়ার দরকার নেই।
এখনও পর্যন্ত অন্য কোনো দেশে এই ভাইরাসের খোঁজ মেলেনি। তবে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
No comments:
Post a Comment