স্বাগতা মিস্ত্রী : করোনার জন্য কার্যত ওপেন বুক সিস্টেমে চলে গেল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। ওপেন বুক এক্সাম’ই ভরসা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের (University Of Calcutta)। বাড়ি বসে বই খুলেই স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে দেওয়া যাবে পরীক্ষা। পরীক্ষার দেওয়ার সময়সীমা ২৪ ঘণ্টা। বুধবার সাংবাদিক বৈঠক করে এমনটাই জানালেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সোনালী চক্রবর্তী বন্দ্যোপাধ্যায়।
সুপ্রিম কোর্টের রায়ে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইনাল পরীক্ষা নিতে বাধ্য রাজ্যগুলি। সেই কারণেই মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছিলেন, পড়ুয়াদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে অক্টোবরে পরীক্ষা নেবে রাজ্য সরকার। তারপরেই সোমবারের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, রাজ্যে যা পরীক্ষা হবে সবই অনলাইনে হবে।
ইউজিসি’র (UGC) সাম্প্রতিক গাইডলাইন অনুযায়ী, দেশের সমস্ত কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের চূড়ান্ত বর্ষের পরীক্ষা নিতেই হবে। সুপ্রিম কোর্টও তাতে সিলমোহর দিয়েছে। সেইমতো এ রাজ্যেও কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে পরীক্ষার তোড়জোড় শুরু হয়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্দেশ দিয়েছিলেন, এক সপ্তাহের মধ্যে সমস্ত পরিকল্পনা ঠিক করার। তা মেনে করোনা আবহে কীভাবে পরীক্ষা নেওয়া হয়, তার রূপরেখা স্থির করতে গত সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সঙ্গে ভারচুয়াল বৈঠকে বসেছিলেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়।সেখানেই ঠিক হয়, অফলাইনে নয়, সর্বত্র অনলাইনেই পরীক্ষা নেওয়া হবে। থাকবে হোম অ্যাসেসমেন্ট। অক্টোবরের ১ থেকে ১৮ তারিখের মধ্যে পরীক্ষা সম্পূর্ণ করতে হবে। অক্টোবর মাসের মধ্যেই প্রকাশ করতে হবে ফলাফল।বুধবার সেই সিদ্ধান্তের কথা জানাল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৫০টি কলেজের লক্ষাধিক পড়ুয়া পরীক্ষা দেবে। সিলেবাস যতটুকু শেষ হয়েছে তার উপর ভিত্তি করেই নেওয়া হবে পরীক্ষা। হোয়াটসঅ্যাপ কিংবা ই-মেলের মাধ্যমে পড়ুয়ার কাছে প্রশ্নপত্র পাঠানো হবে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কলেজে গিয়ে কিংবা অনলাইনে প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। ছাত্রছাত্রীদের উত্তরপত্র দেখবেন সংশ্লিষ্ট কলেজের অধ্যাপকরা।পরীক্ষা শেষ হওয়ার ১২ দিনের মাথায় ফলপ্রকাশ করা হবে৷ পরীক্ষা হবে অনলাইনে৷ ইন্টারনেট সমস্যা থাকলে শহরের কাছাকাছি কোনও সেন্টার তৈরি করে সেখানে অনলাইন পরীক্ষা নেওয়া যেতে পারে৷ সেক্ষেত্রে ইন্টারনেট খরচ বহন করবে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়৷
No comments:
Post a Comment