স্বাগতা মিস্ত্রী: মারাত্মক সংক্রামক ভাইরাস কোভিড-১৯ এর বিস্তার রোধে ক্ষারজাতীয় সাবান কিংবা অ্যালকোহল-যুক্ত হ্যান্ড স্যানিটাইজারের মতো ভাইরাস প্রতিরোধী উপকরণ দিয়ে নিয়মিত হাত ধোয়া অত্যাবশ্যক।বর্তমান বিশ্বে করোনা ভাইরাস মহামারী হিসেবে রূপ নিয়েছে। কেড়ে নিচ্ছে হাজারো মানুষের প্রাণ। প্রতিটি দেশেই এ রোগটি প্রথমভাগে ধীরে ধীরে ছড়াচ্ছে কিন্তু পরে হঠাৎ করেই বড় আকার ধরণ করছে, বিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলে exponential growth। তাই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসাবে যথেষ্ট সতর্ক থাকতে হবে। আর সাবধানতার সেসকল উপায় রয়েছে তারমধ্যে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার অন্যতম। কিন্তু বাজারে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের সহজলভ্যতা না হওয়ায় বর্তমানে স্থানীয়ভাবে এর তৈরির গুরুত্ব বেড়ে গেছে।
স্যানিটাইজারের এমন কিছু ক্ষতিকর উপাদান রয়েছে, যা শরীরে ভয়ঙ্কর প্রভাব ফেলতে পারে। এই স্যানিটাইজার থেকেই অন্ধত্ব চলে আসতে পারে। যা শোনা মাত্রই উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি এফডিএ-র পক্ষ থেকে জানা গেছে, বেশ কিছু স্যানিটাইজারে ক্ষতিকর অ্যালকোহল রয়েছে যা থেকে এই সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। অনেক স্যানিটাইজারেই ইথাইল ব্যবহার করা হচ্ছে , পরে যা মিথানল হিসেবে পজিটিভ হয়ে যাচ্ছে। আর এই মিথানল কাঠের অ্যালকোহল নামে পরিচিত। সম্প্রতি ৬৯ টি উপাদানের তালিকা প্রকাশ করেছে এফডিএ, সেখানেই গ্রাহকদের সাবধান করা হচ্ছে।জুলাই মাসের ২ তারিখে স্টিফেন হ্যান এক বিবৃতিতে জানান, “গ্রাহক ও স্বাস্থ্য পরিসেবা কর্মীদের মিথানল দিয়ে বানানো হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে নিষেধ করা হচ্ছে। এলকোহল বেসড স্যানিটাইজার ব্যবহার করার ক্ষেত্রে সবাইকে।নিরাপদে রাখার দায়িত্ব পালনের বিষয়ে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
মিথানল দিয়ে তৈরি হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে সকলকেই নিষেধ করা গচ্ছে। কারণ এর থেকে মাথা যন্ত্রণা, বমি, অন্ধত্ব, জ্ঞান হারানো থেকে কোমায় পর্যন্ত চলে যেতে পারেন যে কোনও ব্যক্তি। তাই ইথানল বেসড অ্যালকোহল ব্যবহার করলেও মিথানল বেসড স্যানিটাইজার একদম ব্যবহার করতে বারণ করা হচ্ছে। ইথানলের থেকে মিথানলের দামও অনেকটা কম। সেই কারণেই মিথানল দিয়ে বেশি স্যানিটাইজার বানানো হচ্ছে। এছাড়া এফডিআই লেখা স্যানিটাইজার যেগুলি বাজারে বিক্রি হচ্ছে তার সবটাই ভুঁয়ো। কারণ এখনও পর্যন্ত এফডিআই কোনও স্যানিটাইজারই অনুমোদন করেননি।
সিবিআই জানাচ্ছে, নকল হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও পিপিই কিট বিক্রির নামে অনলাইনে ফাঁদ পেতেছে বেশ কিছু অসাধু চক্র। সেইসব নকল হ্যান্ড স্যানিটাইজারে অ্যালকোহল ব্যবহার হচ্ছে না। তার বদলে বিষাক্ত মিথানল মেশানো হচ্ছে। অতিরিক্ত মুনাফার লোভে এবং পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে সেইসব অসাধু চক্র এমন জঘন্য কাজ শুরু করেছে। সিবিআই জানিয়েছে, গত কয়েকদিন ধরে ইন্টারপোলের একটি দল ভারত ও অন্যান্য দেশের বাজারে অভিযান চালিয়ে সেইসব নকল হ্যান্ড স্যানিটাইজার-এর হদিশ পেয়েছে। বেশ রমরমিয়ে চলছে নকল হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবসা। ব্যবহার করা হচ্ছে মারাত্মক সব রাসায়নিক। সেগুলি যে কোনও মানুষকে বিপদের দিকে ঠেলে দিতে পারে।তবে বাড়িতে থাকলে স্যানিটাইজার ব্যবহার না করে ডিটারজেন্ট বা সাবান ব্যবহার করুন, যা অনেক বেশি নিরাপদ।
আমাদের সকলকে সাবধান থাকতে হবে যাতে প্রাণদায়ী কোনভাবেই প্রাণঘাতী না হয়ে ওঠে।
No comments:
Post a Comment